ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের বাকি আর মাত্র দুইদিন। ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে প্রার্থী, ভোটার এবং ছাত্রসংগঠনগুলোকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার নির্দেশনা দিলেও মানছেন না প্রার্থীরা। গত ৩ মার্চ প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর পর থেকেই প্রার্থীদের বিরুদ্ধে একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দিলেও নির্বাচন কমিশনকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। এর ফলে প্রার্থীরা আরও বেশি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলেছে।
আচরণবিধির ৪ এর (গ) ধারায় আছে- ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটার/প্রার্থী ব্যতিত অন্য কেউ কোনোভাবেই কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রচারণা চালাতে পারবেন না। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা বহিরাগত এবং অছাত্রদের নিয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল, শোডাউন এবং লিফলেট বিতরণের মত কাজ করছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রদলের নির্বাচনী প্রচারণায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, ছাত্রদলের ঢাবি শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার সিদ্দিকীসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী অংশ নেন। ছাত্রদলের এসব নেতার ছাত্রত্ব না থাকা ও বয়স ৩০-এর বেশি হওয়ায় ডাকসুর ভোটার বা প্রার্থী কোনোটিই নন। কিন্তু তারা অংশ নিচ্ছেন তাদের প্যানেলের মনোনীত প্রার্থীদের প্রচারণায়। এ বিষয়ে ছাত্রদল মনোনীত ডাকসুর জিএস প্রার্থী আনিসুর রহমান খন্দকার বলেন, আমাদের নেতারা প্রচার করতে ক্যাম্পাসে আসেনি। তারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসে এসেছেন বলে জানান তিনি।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে বহিরাগত এবং অছাত্রদের নিয়ে প্রচারণা চালাতে দেখা যায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ছাত্রলীগের প্যানেল ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ’ থেকে ডাকসুর ভিপি প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল সংসদে ছাত্রলীগ প্যানেলের প্রার্থীদের লিফলেটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে। হলটিতে ‘রোকেয়া পরিষদ’ নামের স্বতন্ত্র একটি প্যানেলের লিফলেটে বেগম রোকেয়ার ছবি রয়েছে। এছাড়াও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেয়ারও অভিযোগ ওঠেছে।
আচরণবিধির ৬ এর (খ) ধারায় আছে- বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও হল এলাকায় অবস্থিত কোনো প্রকার স্থাপনা, দেয়াল, যানবাহন, বেড়া, গাছ-পালা, বিদ্যুত্ ও টেলিফোনের খুঁটি বা অন্য কোনো দন্ডায়মান বস্তুতে লিফলেট বা হ্যান্ডবিল লাগানো যাবে না। কিন্তু প্রায় সকল প্রার্থীই হলগুলোর দেয়ালে দেয়ালে প্রচারণামূলক স্টিকার লাগিয়েছেন। অন্যদিকে পোস্টার বা হ্যান্ডবিলে নিজের ব্যতিত অন্যকারোর ছবি ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো ধরনের বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার নিষেধ হলেও ছাত্র ইউনিয়নের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ এসেছিল। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার বরাবর অভিযোগ দেয় ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সভাপতি ও ছাত্রলীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সনজিত চন্দ্র দাস। বিষয়টি দেখব বলে জানালেও পরবর্তীতে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের শাস্তি হিসেবে ডাকসু নির্বাচনের আচরণবিধির ১৫ (খ) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা, প্রার্থিতা বাতিল অথবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার অথবা রাষ্ট্র বা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী অন্য যেকোনো দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করা হলে নির্বাচন কমিশন বলছে এসব বিষয় প্রক্টর দেখবে। অন্যদিকে, প্রক্টর বলছে নির্বাচন কমিশন অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেব, এর জন্য কিছু সময় লাগতে পারে। সবার জন্য আমাদের এই বিধান থাকবে। সকল প্রার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা থাকলে সব কিছু সহজে সমাধান হবে বলে মনে করেন তিনি।
ছাত্রদলের পরিচিত সভা: ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে নিজেদের দলীয় প্যানেলের পরিচিতি সভা করেছে ছাত্রদল। গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ডাকসু প্যানেলের ২৫ প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেন কেন্দ্রীয় নেতারা। পরিচয়পর্ব শেষে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ইশতেহার তুলে ধরা হয়।
