নিউইয়র্কে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সংক্রান্ত সংলাপে প্রধানমন্ত্রী

সম্মিলিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে অনেক সম্পদ প্রয়োজন

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ২৩:৫২

বৈশ্বিক টেকসই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি অধিকার (আইপিআর) ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় সময় শনিবার সকাল দশটায় জাতিসংঘ সদর দফতরে আয়োজিত টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সংক্রান্ত সংলাপ অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি বলেছেন, বিদ্যমান আইপিআর ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন যাতে জনগণ কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রধান প্রযুক্তিগুলোর সুবিধা লাভ করতে পারে।

 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী চার্লস মিশেল সংলাপ অনুষ্ঠানে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি ‘ফস্টারিং সাসটেইন্যাবল ইকোনোমিক গ্রোথ এন্ড ট্রান্সফরমেশন এন্ড প্রোমোটিং সাসটেইন্যাবল কনসামপশন এন্ড প্রডাকশন’ শীর্ষক এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণ আলোচনাকালে আগামী ১৫ বছরে টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা (এসডিজি) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাঁদের মতামত ব্যক্ত করেন। সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি গণমুখী ও পৃথিবী বান্ধব এজেন্ডা এবং সকলের জন্য বিশেষ উন্নয়নের অঙ্গীকার গ্রহণ করায় তিনি উত্সাহিত হয়েছেন।
 
তিনি বলেন, এখন আমাদের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলো আমাদেরকে বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নের জন্য আমাদের অনেক দেশের সম্পদের প্রয়োজন। একই সময়ে আমাদেরকে অবশ্যই বৈশ্বিক পর্যায়ে পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলোর সমাধান করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর সীমিত সম্পদ নিয়ে টেকসই ব্যবস্থাপনা ও প্রাকৃতিক সম্পদের কার্যকর ব্যবহার উন্নয়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
 
প্রকৃতির সঙ্গে জীবনযাত্রার সমন্বয় ঘটানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোগ হতে হবে ব্যক্তির ‘পছন্দ’ অনুযায়ী যাতে বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে অঙ্গীকারের প্রতিফলন থাকতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের নিশ্চিত করা প্রয়োজন যে, তৃণমূল পর্যায়ের লোকজনও উন্নয়নের সুফল পাবে। প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি খাতে ও সুশীল সমাজের দায়িত্বশীল কর্মসূচি এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও দেশের মধ্যেকার ব্যবধান কমিয়ে আনার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।
 
 অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী, আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, আফ্রিকা ইকোনোমিক কমিশনের নির্বাহী পরিচালক, কিরগিজস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্লোভাকিয়ার পরিবেশ মন্ত্রী, আইএলও মহাপরিচালক, যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী, নোবেল বিজয়ী কৈলাস সত্যার্থী অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বক্তারা এসডিজি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন দেশ ও বিশ্বের সামনে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন এবং অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিষয়ে তাদের সুপারিশ ব্যক্ত করেন।
 
বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসে চীনের আশ্বাস
 
চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং সে দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মূল কর্মসূচির ফাঁকে হোটেল ওয়ার্ল্ডফ অ্যাস্টোরিয়ায় স্থানীয় সময় শনিবার এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ আশ্বাস দেন। এ সময় শেখ হাসিনা চট্টগ্রামে চীনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) গড়ে তুলতে তাঁর সরকারের ৭৭৪ একর জমি বরাদ্দ দেয়ার কথা জিনপিংকে জানান।
 
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফকালে বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের দ্রুত অগ্রসরমান অর্থনীতির প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশকে চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার অংশীদার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাদের অন্যতম সেরা বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেন। জিনপিং দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪০ বছর পূর্তির কথা স্মরণ করে বলেন, ইতোমধ্যে দু’দেশের উচ্চ পর্যায়ের অনেক সফর বিনিময় হয়েছে এবং আগামীতে আরো সফরের ব্যবস্থা হবে। তিনি বলেন, বাণিজ্য, অর্থনীতি ও শিক্ষা খাতে উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরো জোরদার করা যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ থেকে আরো পাটজাত পণ্য আমদানির আশ্বাস দেন।
 
চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার করিডোর নির্মাণে শেখ হাসিনার ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, এই উদ্যোগ এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনবে।
 
প্রধানমন্ত্রী চীনের বাজারে আরো বেশি বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশের সুযোগ দেয়া ও ‘আপটা রুলস অব অরজিন’ শিথিল করতে চীনের প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ জানান। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও ডা. দীপু মনি এমপি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মার্কিন কংগ্রেসের ৩ সদস্যের এক প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে হোটেল ওয়ার্ল্ডফ অ্যাস্টোরিয়ায় দেখা করেন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন কংগ্রেসের ফরেন এ্যাফেয়ার্স কমিটির কমিটির সদস্য এলিয়ট এল এঙ্গেল এবং মার্কিন কংগ্রেসের বাংলাদেশ ককাশের কো-চেয়ার জোশেফ ক্রাউলি ও সদস্য কারোলিন ভি মেলোনি। মার্কিন কংগ্রেস সদস্যরা দারিদ্র্য নিরসনে শেখ হাসিনার সরকার এবং তাঁঁর নেতৃত্বে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তারা সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতির প্রশংসা করেন এবং মিয়ানমারের উদ্বাস্তু সমস্যা সঠিকভাবে মোকাবেলার জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানান।
 
প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
 
‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’ তরুণদের উত্সর্গ করলেন প্রধানমন্ত্রী
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) কাছ থেকে ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’ গ্রহণ করেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় জাতিসংঘ সদরদফতরে আয়োজিত বর্ণাঢ্য নৈশভোজ অনুষ্ঠানে আইটিইউ মহাসচিব হুলিন ঝাও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন। তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় মোট আটজন এবার আইটিইউ পুরস্কার পেয়েছেন।
 
তথ্য-প্রযুক্তিতে অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’ গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছি তখন এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। তিনি এ জন্য আইটিইউকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি এই পুরস্কার লাভ করায় অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছেন।
 
বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এই পুরস্কার উত্সর্গ করে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার প্রত্যেক নাগরিকের কাছে আইসিটি সুবিধা পৌঁছে দিচ্ছে যাতে কেউ পিছনে পড়ে না থাকে। তিনি একটি জ্ঞানভিত্তিক টেকসই ভবিষ্যত্ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকল বাধা দূর করার জন্য পরস্পরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
 
আইটিইউ তাদের ১৫০তম বার্ষিকী এবং ২০১৫ সাল পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডা অনুমোদন সংক্রান্ত জাতিসংঘ সম্মেলন উপলক্ষে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আইসিটি’র সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য বেশ কিছু রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানকে আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার প্রদান করেছে।
 
মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের লক্ষ্যে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিন্ন সমৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন এবং সকলের জন্য মর্যাদাপূর্ণ একটি জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা জোরদার করতে বিশ্বের দক্ষিণ গোলার্ধের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এখানে জাতিসংঘ সদর দফতরে আয়োজিত দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল আলোচনায় তিনি বলেন, দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা স্থায়ীভাবে শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদার করতে পারে। বিস্ফোরন্মুখ বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সহিংস সন্ত্রাসবাদ দক্ষিণে টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিরাজ করছে।
 
শেখ হাসিনা বলেন, নতুন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ (এসডিজি) বিশেষ করে দক্ষিণের দেশগুলোর সঙ্গে প্রাসঙ্গিক। উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়া সত্ত্বেও, বিশ্বের দক্ষিণের দেশগুলো এখনও বৈষম্য, নিরক্ষরতা এবং অনুন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন গোলটেবিল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন। এতে বাংলাদেশ, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, নেপাল, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ১৮টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণ যোগ দেন এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
 
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের দক্ষিণাংশের দেশগুলোর আকার, শক্তি ও উন্নয়নের পর্যায় ভিন্ন হলেও তাদের একটি অভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিষয়টি মনে রেখে বাংলাদেশ চলতি বছরের শুরুতে ঢাকায় দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করেছিল। এতে দক্ষিণ-দক্ষিণ উদ্যোগে অর্থায়ন এবং দক্ষিণের মধ্যে প্রযুক্তি স্থানান্তরের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছিল। শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণে আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আন্তঃসীমান্ত ভৌত যোগাযোগ জোরদার এবং নতুন ধরনের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়।
 
নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক,
 
প্রবাসীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়
 
নিউইয়র্ক থেকে আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি জানান, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে ১১ দিনের সরকারি সফরসূচির সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  বৈঠকে সার্কভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে সর্ম্পকোন্নয়নের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন এই দুই নেতা। সকালের এই বৈঠকের পর সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের লাগোর্ডিয়া ম্যারিয়ট হোটেলে প্রবাসীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
 
নরেন্দ্র মোদী সার্কভুক্ত দেশসমূহের নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও বেশি অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘কূটনৈতিক প্রটোকল বাদ দিয়ে আমাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো উচিত।’
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কথা সমর্থন করে বলেন, ভারত-বাংলাদেশ স্থল চুক্তির ফলে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল সবাই উপকৃত হবে। তিনি জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্য ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
 
এই আলোচনার সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী এবং প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টা, মশিউর রহমান ও গওহর রিজভী। ভারতীয় পক্ষে মোদীকে সহায়তা করেন সে দেশের পররাষ্ট্র সচিব ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
 
এদিকে এই প্রথম নিউইয়র্কে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঈদেন দিন স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি নিউইয়র্কের লাগোর্ডিয়া ম্যারিয়ট হোটেলে প্রবাসীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সফরসঙ্গী ছাড়াও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ও তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এসময় উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘের ৭০তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও তার সহধর্মিণী সেলিনা মোমেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসীদের ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং মক্কায় পায়ের নিচে চাপা পড়ে চার বাংলাদেশি হাজিসহ হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন।
 
ধর্মান্ধরা বাংলাদেশে মেয়েদের শিক্ষায় বাধা হবে না : প্রধানমন্ত্রী
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মৌলবাদি বা ধর্মান্ধরা বাংলাদেশে মেয়েদের শিক্ষা লাভের ক্ষেত্রে কোন বাধা হবে না। কারণ জনগণ তাদের জন্য কোনটি ভাল এবং কোনটি ভাল নয় সে ব্যাপারে সচেতন।
 
 তিনি বলেন, মৌলবাদি শক্তি একসময় মেয়েদের শিক্ষার বিরোধিতা করতো। তবে সেই সময় গত হওয়ায় আমরা এখন সে চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠেছি। আমরা বিশ্বাস করি যে, শিক্ষা জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আমরা যদি তাদের শিক্ষা দিতে এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনে সক্ষম করে তুলতে পারি, তাহলে তারা অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারবেন।
 
 প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামে ‘গার্লস লিড দি ওয়ে’ শীর্ষক বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
 
২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামে সারা বছর ধরে সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে উন্মুক্ত বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। ফোরামের বিগত অধিবেশনগুলোতে অনেক রাষ্ট্রপ্রধান অংশ নিয়েছেন।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট লী সি. বোলিঙ্গার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান এবং সূচনা বক্তব্য রাখেন। তিনি পরে প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালনা করেন। তিনি ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জিত বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরেন।
 
 প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দেখতে চাই যে আমাদের মেয়েরা সকল বাধা অতিক্রম করে জাতি গঠনমূলক কাজে নেতৃত্ব দিবে। শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে আমার পরিকল্পনায় এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
 
 তিনি বলেন, সারা বিশ্বে শিশুদের স্কুলে পাঠানোর ক্ষেত্রে ভাল কাজ হচ্ছে, বাংলাদেশের মতোই অনেক স্থানে ছেলেদের চেয়ে বেশি মেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে, কিন্তু এই অগ্রগতি এখনো অসম।
 

 তিনি আরো বলেন, বিশেষ করে সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলো এখনো পিছিয়ে রয়েছে। এখনো প্রায় ৬০ মিলিয়ন শিশু স্কুলের বাইরে রয়েছে এবং তাদের ৭৫ শতাংশ মেয়ে। আমরা তাদের পিছনে ফেলে রাখতে পারি না। তাই, আমাদের উন্নয়ন এজেন্ডায় এসব শিশুদের রাখতে হবে।