খুনি শনাক্তে চলছে সমন্বিত তত্পরতা

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ২৩:৩৭

গুলশানের কূটনীতিকপাড়ায় ইতালির নাগরিক চেজার তাভেল্লা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দেশি-বিদেশি বা আন্তর্জাতিক কোনো চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, ডিবি ও সিআইডিসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে সমন্বিতভাবে তদন্ত করছে। জড়িত ও খুনিদের সনাক্তে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছেন গোয়েন্দারা।

 
গুলশান এলাকা থেকে বেশকিছু সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের কথাও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং র্যাব ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তবে অধিকাংশ ভিডিও ফুটেজ অস্পষ্ট। এ কারণে ঘটনার পর দুইদিন অতিবাহিত হলেও খুনিরা সনাক্ত হয়নি। এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের মোটিভ সম্পর্কেও নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল তদন্তের বিষয়টি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্তভার পেলেও তাদের সহায়তায় কাজ করছে র্যাব। গতকাল বুধবার র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দেশি-বিদেশি বা আন্তর্জাতিক কোনো চক্র জড়িত কি-না সেটিও আমরা খতিয়ে দেখছি। তবে ঘটনাটি পরিকল্পিত, তা প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখন খুনিদের গ্রেফতার করতে পারলেই সবকিছু পরিষ্কার হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশের বেশকিছু সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখনো সেগুলোতে খুনিদের সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে খুনিদের সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। ডিবি পুলিশের কয়েকটি টিমকে মাঠে নামানো হয়েছে। 
 
চেজার তাভেল্লাকে হত্যার ঘটনা তদন্তে পুলিশের গঠন করা কমিটিকে সহায়তার জন্য ১১ সদস্যের একটি দল গঠন করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ড তদন্তে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার যুগ্ম কমিশনার মো. মনিরুল ইসলামকে প্রধান করে এক সদস্যের যে কমিটি করা হয়েছে তাকে সহায়তা করতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের বাছাই করা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তদন্ত সহায়তা টিম গঠন করা হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে। মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, মহানগর গোয়েন্দা শাখার ডিসি মাহবুব আলমের সমন্বয়ে ১১ সদস্যের তদন্ত সহায়তা দল গঠন করা হয়েছে। এতে একজন উপ-কমিশনার ও চারজন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রয়েছেন।
 
বাংলাদেশ পুলিশ এবং গোয়েন্দা বিভাগের তদন্তের পাশাপাশি চেজার তাভেল্লা হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে নিজস্ব গোয়েন্দা নেটওয়ার্কে কাজ শুরু করেছে ইতালি। জঙ্গি সংগঠন আইএস হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করলেও তা নিজস্ব নেটওয়ার্কে নিশ্চিত হতে চায় ইতালির গোয়েন্দা সংস্থা। আইএস হলে কেনো তাভেল্লা টার্গেট হলেন আর আইএস না হলে কারা কেন একজন ইতালীয়কে হত্যা করলো তা খুঁজে দেখার কাজ শুরু করেছে তারা। ইতালীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে তাদের দেশের একজন উন্নয়ন কর্মীর হত্যাকাণ্ডের খবর ইতালীয়দের কাছে অনেকটা বিস্ময়কর মনে হচ্ছে।
 
বিচার চায় ইইউ
 

গুলশানের কূটনীতিক পাড়ায় ইতালির নাগরিক তাভেল্লা চেজারকে হত্যার নিন্দা ও শোক জানিয়ে দোষীদের বিচার দাবি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। মঙ্গলবার ব্রাসেল্স থেকে ইইউ’র এক্সটার্নাল অ্যাক্শন উইংয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, সোমবার ঢাকায় ইতালির নাগরিক তাভেল্লার হত্যাকাণ্ডে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তিনি নেদারল্যান্ডভিত্তিক একটি এনজিওতে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনার জন্য দায়ীদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। মঙ্গলবার বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন এক বিবৃতিতে এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানান। গতকাল বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের কার্যালয়ে ছয়টি ইউরোপীয় দেশের কূটনীতিকরা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে কূটনীতিকরা ইতালির নাগরিক হত্যার পর নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।