ভাড়াটে কিলার দিয়েই ঢাকায় ইতালীয় নাগরিককে খুন করা হয়েছে। কিলারদের একটি সম্ভাব্য তালিকাও তৈরি হয়েছে।
এ পর্যন্ত হত্যায় ব্যবহূত মোটরসাইকেল সদৃশ পাঁচটি মোটরসাইকেল শনাক্ত করেছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে সিসি ক্যামেরার অস্পষ্ট ভিডিও ফুটেজের কারণে হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের সঙ্গে ওই পাঁচটি মোটরসাইকেলের মিল আছে কি না, তা শনিবার পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থাগুলো তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ওই পাঁচ মোটরসাইকেলের সূত্র ধরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এ পর্যন্ত চার জনকে আটক করেছে। তাদেরকে ডিবি কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তদন্ত কমিটির সদস্যরা এ সংক্রান্ত তেমন কোনো তথ্য জানাচ্ছেন না।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, তারা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে হত্যা রহস্যের জট খোলার চেষ্টা করছেন। কিছু কিছু ক্লু পাওয়া যাচ্ছে। সেগুলো যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। তবে উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডে আগে ও পরে ঘটনাস্থলের আশেপাশের মোবাইলের কললিস্ট, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে খুনিদের সনাক্তের চেষ্টা চলছে। খুনিদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করতে সব ধরণের প্রক্রিয়া অনুসরণ করছেন। এ জন্য কিছু সময় লাগবে। রহস্যের জট খুললেই সকল তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। এ কারণে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি স্পর্শকাতর ভেবে কোনো মন্তব্য করছেন না।
ইতালীয় নাগরিক তাবেল্লা চেজার হত্যাকাণ্ডে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাবেল্লার খুনিদের ধরতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করছেন তারা। হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদ্ধারের জন্য মরিয়া হয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কাজ করছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ৬ জন সহকারী পুলিশ কমিশনারের (এসি) দল হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য নানা কারণ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রযুক্তির পাশাপাশি কাজে লাগানো হচ্ছে গুপ্তচরদের।
সূত্র জানায়, এরই মধ্যে গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা পেশাদার কিলার গ্রুপের সদস্যদের তালিকা করেছে। তাভেল্লা চেজারকে ভারাটে কিলাররা খুন করতে পারে এই ধারণা থেকে তাদের বিষয়ে খোঁজখবর করা হচ্ছে। খোঁজ নেয়া হচ্ছে অস্ত্রের উেসর বিষয়েও।
র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ বলেন, ইতালির নাগরিক তাভেল্লা চেজার ও জাপানের নাগরিক হোসি কনিও হত্যার ধরন প্রায় একই রকম। দুটি ঘটনার মোটিভও একই রকম বলে মনে হচ্ছে। এক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরেকটির যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৬৫ বছরের হোসি কনিও একজন বয়স্ক নাগরিক। তিনি রংপুরে বসবাস করে নানা কৃষি কর্মকাণ্ডে সময় পার করেন। তার এখানে খুন হওয়ার মতো শত্রু থাকার কথা নয়। একইভাবে তাভেল্লা চেজারও দরিদ্র বাংলাদেশিদের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে কাজ করছিলেন। ফলে এ দুই হত্যাকাণ্ডে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে ঘটানো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ সেপ্টেম্বর গুলশানের ৯০ নম্বর সড়কে দুর্বৃত্তরা গুলি করে ইতালীয় নাগরিক তাভেল্লা চেজারকে হত্যা করে।
