কার্বন ন্যানোটিউব চিপ নির্মাণের আরও কাছে আইবিএম

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৫, ০৪:০৪

কম্পিউটিংয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত সিলিকননির্ভর কাঠামোর বাইরে গিয়ে কার্বন ন্যানোটিউবের ব্যবহার নিয়ে প্রযুক্তিবিশ্বে আলোচনা চলে আসছে অনেকদিন ধরেই। সিলিকন চিপের চাইতেও কার্বন ন্যানোটিউবে তৈরি চিপের গতি এবং কর্মক্ষমতা অনেক বেশি হবে বলে কার্বন ন্যানোটিউবের চিপ তৈরি নিয়ে গবেষণাও পরিচালনা করে আসছে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কাঠামোগত কারণেই কার্বন ন্যানোটিউবের চিপ তৈরির বিষয়টি এখনও বাস্তবতার বাইরেই রয়ে গেছে।

 
তবে এবারে শতবর্ষী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইবিএম জানিয়েছে, কার্বন ন্যানোটিউবের মাধ্যমে চিপ তৈরির গবেষণায় তারা গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে সমর্থ হয়েছে। এতদিন পর্যন্ত মাইক্রোপ্রসেসরে কার্বন ন্যানোটিউবের সংযুক্তি ঘটলে এর উচ্চ রোধের কারণে বৈদ্যুতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতো। তবে আইবিএম এই ন্যানোটিউবগুলোকে এমনভাবে মাইক্রোপ্রসেসরে সংযুক্ত করেছে যাতে করে ডিভাইস ‘অন’ স্টেটে থাকলেও কার্বন ন্যানোটিউবগুলো বিদ্যুত্ পরিবহনে সক্ষম হয়ে উঠতে পারে।
 
এর জন্য তারা ন্যানোটিউবগুলোকে মলিবডেনামের সাথে বন্ধনে যুক্ত করেছে। এই বন্ধনগুলো আকৃতির দিক থেকে অত্যন্ত ক্ষুদ্র হওয়ার কারণে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অত্যন্ত ক্ষুদ্রাকৃতির চিপ তৈরি সম্ভব বলে জানিয়েছে আইবিএম। শুধু তাই নয়, আগামী কয়েক প্রজন্মের ডিভাইস তৈরির জন্যই এই প্রযুক্তির ব্যবহার সম্ভব বলে মনে করছে আইবিএম। নতুন এই উদ্ভাবনের ফলে কার্বন ন্যানোটিউব চিপ তৈরির প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আইবিএমের বিজ্ঞানী সু-জেন হ্যান।
 
তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমরা দেখাতে পেরেছি যে প্রযুক্তিকে আমরা আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। এতদিন পর্যন্ত যা মনে হচ্ছিল, তার চাইতে আরও আগেই কার্বন ন্যানোটিউব চিপের দেখা মিলতে পারে। আর তা আসছে এক দশকের মধ্যেই হয়তো সম্ভব হবে।’
 
আইবিএমের এই উদ্ভাবনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন টেকনলেজ স্ট্র্যাটেজিসের চিপ-বিশেষজ্ঞ মাইক ফিবাসও। তিনি বলেন, ‘আইবিএমের এই উদ্ভাবন সত্যিই দারুণ। অনেকেই এই প্রযুক্তি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতেন কিন্তু তারা হয়তো এবারে সেই সমালোচনা বন্ধ করতে বাধ্য হবেন।’ উল্লেখ্য, কার্বন ন্যানোটিউব চিপের গবেষণায় আইবিএম ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের গবেষণা পরিচালনা করে আসছে।