বাংলা বানানের নিয়ম-কানুন- ২ ‘ণ-ত্ব’ বিধানের নিয়ম

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৯, ১৯:২১

ইমরানা বেগম

সহকারী প্রধান শিক্ষক

আমরাইদ ইয়াকুব আলী সিকদার উচ্চ বিদ্যালয়, কাপাসিয়া গাজীপুর।

 

শিক্ষার্থী বন্ধুরা আমরা ‘ন’ এবং ‘ণ’ দিয়ে গঠিত শব্দে যে  বানানগুলো সচরাচর ভুল করে থাকি সেগুলোকে শুদ্ধভাবে জানার জন্যেই আজকে আমার এ লেখা। গত সপ্তাহে আমরা বাংলা বানানে ‘ণ’ এর ব্যবহার সম্পর্কে জেনেছি। এসো আজকে আরও কিছু নিয়ম জেনে নেই।

খাঁটি বাংলায় ’ণ’ এর ব্যবহার নেই। ’ণ’ এর বিশিষ্ট উচ্চারণ বাংলা ভাষায় এখনো কিন্তু অজ্ঞাত।

আমরা জানি তত্সম শব্দে ‘ণ’ এর ব্যবহারকেই ‘ণ-ত্ব’ বিধান বলে।

এবার আসি ‘ণ’ এর ব্যবহারে।

৫। র, রেফ, র-ফলা, ষ, ক্ষ-এর পরে ‘ণ’ হয়। যেমন: অরণ্য, আচরণ, আবরণ, কর্ণ, বর্ণ, বর্ণনা,ত্রাণ, শ্রেণি, প্রাণী, গবেষণা, প্রেষণা, দূষণ, প্রশিক্ষণ, পরীক্ষণ, অণুবীক্ষণ।

(সূত্র: বাংলাদেশের ভাষা-পরিকল্পনা পর্যালোচনা ও প্রস্তাব-জাহাঙ্গীর আলম জাহিদ)

 ৬। একই পদের মধ্যে , প্রথমে “ঋ ঋ-কার, র, ষ, ও পরে স্বরবর্ণ ক-বর্গ,প-বর্গ, ষ, ব, হ- কার ও অনুস্বারের ব্যবধান এবং এ ক্ষেত্রেও ‘ন’ থাকলে তা ‘ণ’ হয়ে যায়। যথা-করণ একইভাবে গ্রহণ, হরণ, হরিণ, বৃক্ষমাণ, কৃপণ, বিষয়িণী,বিষাণ, নির্বাণ, রেণু, লক্ষণ ইত্যাদি।

কিন্তু ঋ, র, ষ, ও পরবর্তী দন্ত্য -ন’ এর মধ্যে অন্য বর্ণের ব্যবধান থাকলে ‘ণ’ হয় না। ; যেমন- মর্দন, দর্শন, প্রার্থনা, কর্তন, অর্চনা, রচনা, রঞ্জন,গুঞ্জন, ব্যঞ্জন ইত্যাদি।

৭। পূর্বের দুটি উপসর্গের নিয়মানুসারে “প্রতি, পরা, পরি, নির্, এই চার উপসর্গের ও ‘অন্তর’ শব্দের পরস্থিত নদ্, নশ্, নহ্ নী, নুদ্, অন্, হন্, “এই কয়েকটি ধাতুর দন্ত্য-ন মূর্ধন্য- ণ হয়ে যায়। যথা-”নামে, কিন্তু প্রণামে ; নষ্ট-প্রণষ্ট; নীত-প্রণীত; নতি-পরিণতি; হনন-প্রহণন, ইত্যাদি।

৮। উপসর্গের পরে ‘নি’ উপসর্গ থাকলে তা ‘ ণি’ হয়; যথা- নিধান- প্রণিধান; নিপাত-প্রণিপাত; ইত্যাদি।

আবার “পরায়ণ, উত্তরায়ণ, চন্দ্রায়ণ, নারায়ণ, শব্দের ‘ণ’ ও একই কারণে মূর্ধন্য-ণ হয়।

প্রিয় শিক্ষার্থিবৃন্দ,‘বন’ শব্দে দন্ত্য-ন স্থানে মূর্ধন্য-ণ হয়। যেমন - আম্রবণ, শ্রবণ, ইক্ষুবণ ইত্যাদি। বিশেষ নিয়মানুসারে ; বাংলায় কিন্তু সাধারণত; আম্র-বন, ইক্ষূ-বন, শর-বন প্রভৃতি লেখা হয়।

(সূত্র: ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ-সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।)

আবার কিছু কিছু বানানে দন্ত্য-ন এবং মূর্ধন্য দুই-ই ব্যবহূত হয়ে থাকে। যেমন-রাণী--রানী, কাণ-কান, সোণা-সোনা, ঝরণা-ঝরনা, পুরাণ-পুরানো ইত্যাদি। (সূত্র-ভাষা- প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ-সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়)

৯। বিদেশী শব্দ, ত-বর্গযুক্ত শব্দ, ক্রিয়াপদ, পদের শেষে ,সমাসবদ্ধ শব্দে কখনোই ‘ণ’ হয় না। যেমন: কানুন, হয়রান, কোরআন, শাবান, দন্ত, অন্ত, গ্রন্থ, মন্থর, ক্রন্দন, যাবেন,করবেন, খাবেন, বলবেন ,শাসন, প্রশাসন, রূপবান, দুর্নাম,ত্রিনয়ন,দুর্নীতি।

১০। ‘অহ্ন’ যোগে গঠিত শব্দে  ‘ন’ হয়। যথা: আহ্নিক, সায়াহ্ন, চিহ্ন, মধ্যাহ্ন।

সুপ্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা,

ভাষামাত্রেরই কতকগুলো নিয়ম রয়েছে। নিয়ম বলতে ভাষার অন্তর্গত শৃঙ্খলাকে বোঝায়। তাই এসো আমরা বাংলাভাষাকে শুদ্ধভাবে জানি, বুঝি এবং লালন করি হূদয়ে। আশা করি এ আলোচনার মাধ্যমে বাংলা বানানে ‘ণ’ এর ব্যবহারে তোমাদের বিভ্রান্তি কিছুটা হলেও দূর হবে।

বাংলা বানানের নিয়ম জানতে চোখ রাখুন ইত্তেফাক-এর অনুশীলন পাতায় ও বাংলা বানানের নিয়ম -কানুন  গ্রুপের ফেসবুক পেইজে