বিজ্ঞান
মিরাজুল ইসলাম, প্রভাষক
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ
জমিতে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার করতে হবে
প্রশ্ন- পানি কীভাবে দূষিত হয়? পরিবেশে পানি দূষণের পাঁচটি ক্ষতিকর প্রভাব লিখ।
উত্তর: পানি দূষণ: পানির স্বাভাবিক বিন্যাসে পরিবেশের ক্ষতি করে এরূপ পদার্থসমূহের উপস্থিতিই পানি দূষণ। শিল্পকারখানার বর্জ্য পদার্থ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক, মানব বসতির বর্জ্য প্রভৃতি মিশে পানি দূষিত হয়।
পানি দূষণের প্রভাব: পানি দূষণের পাঁচটি ক্ষতিকর প্রভাব হচ্ছে:
১) মানুষ ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, জন্ডিস, চর্মরোগ ইত্যাদি পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়।
২) পানিতে মাছসহ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যায় এবং খাদ্য শৃঙ্খলের ব্যাঘাত ঘটে।
৩) উদ্ভিদ ও প্রাণীর খাদ্য উত্পাদন ব্যাহত হয়।
৪) নদ-নদী, খাল-বিল ও পুকুরের পানি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
৫) পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
প্রশ্ন-: মাটি দূষণ কাকে বলে? মাটি দূষণের পাঁচটি কারণ লিখ।
উত্তর: মাটি দূষণ: মাটি গঠনের মূল উপাদান খনিজ পদার্থ, জৈব পদার্থ, পানি ও বায়ু ব্যতীত মাটিতে ক্ষতিকর কিছুর আবির্ভাব ঘটাকে মাটি দূষণ বলে।
মাটি দূষণের কারণ: মাটি দূষণের পাঁচটি কারণ নিম্নরূপ:
১) কৃষিকাজে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারে মাটি দূষিত হয়।
২) প্লাস্টিক, পলিথিন প্রভৃতি অপচনশীল দ্রব্য মাটিতে ফেললে মাটি দূষিত হয়।
৩) গৃহস্থালি ও হাসপাতালের বর্জ্য ও কলকারখানার রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে মাটি দূষিত হয়।
৪) অতিরিক্ত পানি সেচ, নির্বিচারে বন ও গাছপালা ধ্বংসের ফলে মাটি দূষিত হয়।
৫) বন্যা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহ ইত্যাদি প্রাকৃতিক কারণে মাটি দূষিত হয়।
প্রশ্ন-: তোমার এলাকার পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চারটি উপায় লেখ।
অথবা, আমাদের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চারটি উপায় লেখ।
উত্তর: আমাদের চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চারটি উপায় নিম্নরূপ:
i. পরিবেশ সম্পর্কে আমাদের সকলকেই সচেতন হতে হবে।
ii. বসতবাড়ি ও বিদ্যালয়ের আঙ্গিনা সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
iii. কৃষিখেত, খামারের গাছপালা এবং পশুপাখির নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে।
iv. ময়লা-আবর্জনা, মলমূত্র যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।
প্রশ্ন-: তোমার এলাকার পরিবেশ দূষণ রোধের পাঁচটি উপায় লিখ।
উত্তর: আমদের পরিবেশ বিভিন্নভাবে দূষিত হয়। পরিবেশ দূষণ রোধের পাঁচটি উপায় নিম্নরূপ:
i. জমিতে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার করতে হবে।
ii. পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে হবে।
পুকুরের পানিতে বাসনকোসন ধোয়া, গোসল করা, ময়লা কাপড় কাচা, প্রাণীর মৃতদেহ ফেলা ইত্যাদি কাজকর্ম বন্ধ করতে হবে।
iv. জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার যথাসম্ভব কমিয়ে আনতে হবে।
v. ময়লা আবর্জনা, মল-মূত্র এবং কলকারখানার বর্জ্য যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।
