নিদ্রাহীনতা খুবই অস্বস্তিকর এক অবস্থা। দিনের পরে নেমে আসে রাত, সেই রাতে প্রকৃতিও বিশ্রাম নেয়, নিঝুম হয়ে পড়ে। এটাই স্বাভাবিক। সৃষ্টির আদিকাল থেকেই এ রকম চলে আসছে এবং চলবে। মানুষও বিশ্রাম নেবে, শান্তিময় ঘুমে ডুবে যাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তব কথা হলো অনেকেই ঘুমোতে পারে না। ঘন্টার পর ঘন্টা বিছানায় সময় কেটে যায়, চোখে ঘুম আসে না। শান্তিময়, সুন্দর ঘুম এক প্রাকৃতিক ব্যবস্থা। ঘুমের মাধ্যমে আপনার শরীর বিশ্রাম পায়, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং শারীরিক বৃদ্ধি ঘটে ও তা সংরক্ষিত হয়। যদি প্রায়ই আপনার রাতের ঘুমটা খুব বাজে হয় তাহলে বুঝতে হবে আপনার প্রাকৃতিক ঘুমের ধরনটা যেভাবে হোক বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
কেন ঘুম আসে না
নতুন চাকরি, কাঁধে অনেক কাজের বোঝা, মানসিক চাপ, উদ্ব্বেগ প্রভৃতি বিষয় আপনার ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের এক জরিপে দেখা গেছে, ৩৪ শতাংশ মহিলা মানসিক চাপের কারণে নিদ্রাহীনতায় ভোগেন। একই জরিপে দেখা গেছে, ৯০ শতাংশ লোক রাতে টিভি দেখেন এবং ৬৩ শতাংশ লোক ঘুমানোর এক ঘন্টা আগে বই পড়েন। সমস্যা হলো যখন আপনি ঘুমানোর আগে টিভি দেখেন বা বই পড়েন তখন আপনার মনের মধ্যে উদ্দীপনাকর ক্রিয়া ঘটতে থাকে অথচ সে মুহূর্তে আপনার শান্ত থাকা উচিত। ঘুমের সময়ে মস্তিষ্ক যদি উত্তেজিত থাকে, ঘুম না হওয়ারই কথা। তাই সুন্দর ঘুমের জন্য কী
করবেন আপনি? স্রেফ নিচের নিয়মগুলো মেনে চলুন-
শোয়ার ঘরকে সুরক্ষা দিন
আপনার শোয়ার ঘরকে ঘুমের জন্যই বরাদ্দ করুন। খাওয়া, টিভি দেখা কিংবা কাজ করার জন্য নয়। বিছানায় মানসিক চাপপূর্ণ কার্যক্রম পরিহার করুন। মনে রাখবেন এটা আপনার শুধু বিশ্রাম নেয়া ও ঘুমানোর জায়গা। বিছানাটাকে সেভাবেই সাজাবেন। দিবানিদ্রা পরিহার করুন। দিবানিদ্রা আপনার স্বাভাবিক ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, তাই দিবানিদ্রা পরিহার করুন। নিজেকে এই শিক্ষা দিন যে ঘুম হলো শুধু রাতের কাজ।
ঘুমের ওষুধ পরিহার করুন
অনেকে সুন্দর ঘুমের জন্য নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খান। কিন্তু ঘুমের ওষুধ আপনাকে ওষুধে নির্ভরশীল করে তুলবে এবং এ কারণে আপনি আর স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে পারবেন না। তা ছাড়া ঘুমের ওষুধ সেবনের ফলে সকাল বেলা আপনার মাথা ভার ভার লাগবে, ম্যাজম্যাজ করবে শরীর। কোনো কাজে সম্পূর্ণ মন বসাতে পারবেন না। তাই ঘুমের ওধুষ পরিহার করে স্বাভাবিকভাবে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন। আর ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে চা বা কফি পান করবেন না।
গভীরভাবে শ্বাস নিন
এটাই পারে আপনাকে শান্তিময় ঘুমের মধ্যে টেনে নিয়ে যেতে। বিছানায় চিত্ হয়ে শুয়ে পড়ুন। ঘরের সব বাতি নিভিয়ে দিন। তারপর শ্বাস নিন গভীরভাবে।
সমস্ত শরীর শিথিল করে দিন। চিন্তায় কোনো উদ্বেগ আনবেন না। মাথা থেকে সব চিন্তা ঝেড়ে ফেলুন। শুধু গভীর শ্বাস নিন। দেখবেন কখন ঘুমিয়ে পড়েছেন নিজেই জানেন না।
nডা. মিজানুর রহমান কল্লোল
সহযোগী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্রমা বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল চেম্বার:পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ, ২, ইংলিশ রোড, ঢাকা
