বান্দরবান প্রতিনিধি
বান্দরবানে বোমাং সার্কেলের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী তিন দিনব্যাপী জুমের বাত্সরিক খাজনা আদায়ের অনুষ্ঠান রাজপুণ্যাহ উত্সব শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকালে ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় পোশাক পরিধান করে রাজবাড়ী থেকে রাজকীয় বাঁশির সুরে স্থানীয় রাজার মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানস্থলে নেমে আসেন বান্দরবান বোমাং সার্কেল চিফ ১৭তম রাজা প্রকৌশলী উচপ্রু চৌধুরী। এসময় তার সৈন্য-সামন্ত, উজির-নাজির, সিপাহী শালাররা রাজাকে গার্ড দিয়ে রাজবাড়ি থেকে অনুষ্ঠানস্থল মঞ্চে নিয়ে আসেন। বোমাং রাজা সিংহাসনে উপবিষ্ট হলে বান্দরবান জেলার ৭টি উপজেলার ৯৫টি মৌজা এবং রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই ও রাজস্থলী দুটি উপজেলার ১৪টি মৌজাসহ মোট ১০৯টি মৌজার হেডম্যান, ৮ শতাধিকেরও বেশি কারবারী, রোয়াজারা সারিবদ্ধভাবে কুর্নিশ করে জুমের বাত্সরিক খাজনা ও উপঢৌকন রাজার হাতে তুলে দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। এসময় অন্যদের মধ্যে কৃষি সচিব নাসিরুজ্জামান, বান্দরবান সেনা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার মোঃ শাহিনুর এমরান, জেলা প্রশাসক মোঃ দাউদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদারসহ সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে মেলার অনুমতি না দেয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে মেলায় স্টল এবং দোকান-পাট বসতে আসা ব্যবসায়ীরা ফিরে গেছে। প্রসঙ্গতঃ বংশ পরাম্পরায় বোমাং রাজ প্রথা অনুযায়ী রাজ পরিবারের সবচেয়ে বয়জ্যেষ্ঠ পুরুষ রাজা নির্বাচিত হন। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে রাজকীয় পদ্ধতিতে দুর্গমাঞ্চলগুলোতেও পুণ্যাহ মেলার বার্তা পৌঁছিয়ে দেওয়া হয় রাজ পরিবারের পক্ষ থেকে।
