বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার তালোড়া পৌর এলাকার মেঘা মহল্লায় প্রবেশের রাস্তার একপার্শ্বে রহিয়াছে দুইটি খাম্বা। তাহার উপর রহিয়াছে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার। সেখান হইতে শতাধিক তার বাঁশের খুঁটিতে ঝুলাইয়া মহল্লার প্রায় ৩০০ মিটার পর্যন্ত বিভিন্ন বাড়িতে দেওয়া হইয়াছে বিদ্যুতের সংযোগ। এই তারগুলি বর্তমানে জরাজীর্ণ। যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কাকে উড়াইয়া দেওয়া যায় না। মহল্লাবাসীরা বলিতেছেন, তাহারা বিদ্যুতের খাম্বার জন্য বিদ্যুত্ বিভাগের লোকজনের নিকট ২০ বত্সর ধরিয়া ধরনা দিয়া আসিতেছেন। তাহারপরও তাহারা সিমেন্টের স্থায়ী খুঁটি পান নাই। ইহার মাধ্যমে কয়েকটি সেচপাম্প ও চালকলেও দেওয়া হইয়াছে বিদ্যুতের সংযোগ। প্রায় দুই দশক ধরিয়া একটি এলাকায় এভাবে বাঁশের খুঁটিতে বিদ্যুত্ সংযোগ বিদ্যমান থাকাটা মোটেও কাম্য নহে। সারাদেশে এই ধরনের সমস্যা যেসব এলাকায় রহিয়াছে, দ্রুত তাহার সমাধান করা একান্ত প্রয়োজন।
বাঁশের খুঁটিতে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক। দেশের কোনো কোনো এলাকায় বিভিন্ন খাল-বিলের ওপর দিয়াও বাঁশের খুঁটিতে বিদ্যুতের সংযোগ নেওয়া হইয়াছে। বর্ষার সময় এইসব জলাশয়ের ওপর দিয়া নৌকা চলাকালে বিদ্যুতের তারে পেচাইয়া গিয়া অনেকে দুর্ঘটনায় নিপতিত হন। অনেক সময় ঝড়-বৃষ্টিতে তার ছিঁড়িয়া পড়িলে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হইয়া কেহ কেহ মৃত্যুবরণও করেন। অথচ এভাবে বিদ্যুত্ সংযোগ দেওয়ার কোনো নিয়মই নাই। কিন্তু স্থানীয় জনগণের তাত্ক্ষণিক প্রয়োজনের কথা চিন্তা করিয়া এই সাময়িক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং শীঘ্রই সেখানে স্থায়ী খুঁটি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সেই প্রতিশ্রুতি যথারীতি রক্ষা করা হয় না। এইভাবে বিদ্যুত্ নেওয়ার কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভোল্টেজ পাওয়া যায় না। প্রায় প্রতিদিনই নষ্ট হয় গ্রাহকদের টিভি, ফ্রিজসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি। শুধু বাঁশের খুঁটি নহে, অনেক সময় ঘরবাড়ির উপর দিয়া উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনও টানানো হয় বিপজ্জনকভাবে। ইহাতে প্রায়শ দুর্ঘটনা ঘটে। অথচ বিদ্যুত্ আইন অনুযায়ী উচ্চ ভোল্টেজের সঞ্চালন লাইনের নিচে কোনো ঘরবাড়ি বা স্থাপনা থাকিতে পারিবে না। ডানে ও বাঁয়ে অন্তত ১০ ফুট ফাঁকা স্থান রাখিতে হইবে। কিন্তু এসব নিয়মও অনেক সময় মানা হয় না। কোনো কোনো বাড়ির ছাদ ও চাল বিদ্যুতের লাইন ছুঁই ছুঁই করে। এইসব বিপজ্জনক বিদ্যুতের তার যথাসম্ভব দ্রুত সরাইয়া নেওয়া জরুরি।
মূলত যেখানে বিদ্যুত্ সংযোগের প্রচলিত অবকাঠামোর অভাব, সেখানেই সরবরাহ ও প্রয়োজনের মধ্যে সমন্বয় ঘটাইতে বাঁশের খ্বুঁঁটিতে বিদ্যুতের তার টানাইয়া সংযোগ নেওয়ার দৃশ্য আমাদের চোখে পড়ে। বর্তমানে এই পরিস্থিতি একেবারেই বেমানান ও অপ্রত্যাশিত। কেননা আমরা জানি, বিদ্যুত্ উত্পাদন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করিয়াছে। বর্তমানে ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ মোট বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা ২১,১৬৯ মেগাওয়াট। বলিতে গেলে শতভাগ বিদ্যুতায়নের পথে আগাইয়া যাইতেছে বাংলাদেশ। এমতাবস্থায় বাঁশের খুঁটিতে তার টানাইয়া বিদ্যুত্ বিতরণের দৃশ্য আমরা আর দেখিতে চাহি না। এই ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সবার আগে আগাইয়া আসিতে হইবে এবং পিডিপি, পল্লী বিদ্যুত্সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা, অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতা দূর করিতে হইবে।
