রামপাল, ওরিয়ন বিদ্যুেকন্দ্রসহ সুন্দরবন বিধ্বংসী সকল প্রকল্প বাতিল ও প্রাণ-প্রকৃতি পরিবেশ রক্ষার দাবিতে ঢাকা থেকে ‘সুন্দরবন রক্ষা অভিযাত্রা’ শুরু করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মঙ্গলবার বিকেলে সমাবেশ শেষে এ যাত্রা শুরু হয়। সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে কলামিস্ট সেয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘সুন্দরবনকে ধ্বংস করার জন্য দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা উঠে-পড়ে লেগেছে। দেশের মানুষ এসব চক্রান্তের কৌশল মেনে নিতে পারে না। পরিবেশ বিধ্বংসী সকল প্রকল্প থেকে সরে আসার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশে তেল-গ্যাস-বিদ্যুত্ রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ড. আনু মুহাম্মাদ বলেন, সুন্দরবন বাংলাদেশের মানুষের অস্তিত্বের অংশ। বাংলাদেশ অরক্ষিত হয়ে যাবে সুন্দরবন ধ্বংস হলে।
অন্য বক্তারা বলেন, আমরা বিদ্যুত্ চাই, তবে সুন্দরবন ধ্বংসের বিনিময়ে নয়। বিদ্যুত্ উত্পাদনের অনেক বিকল্প পথ রয়েছে। সেসব পথ বিবেচনা না করে সুন্দরবনের ১৪ কিলোমিটারের মধ্যে ভারতের এনটিপিসির সাথে যৌথ উদ্যোগে রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুত্ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সুন্দরবন ভারতেও আছে, সেখানে এনটিপিসি এ ধরনের প্রকল্প নিতে পারেনি। ভারতে পরিবেশগত প্রভাব পরিমাণ (ইআইএ) গাইডলাইন ২০১০ অনুযায়ী বনাঞ্চলের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ করা যায় না।
তারা জানান, একটি কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুত্ প্রকল্প হাজার-হাজার টন সালফার, নাইট্রোজেন ও কয়লা ধোঁয়া নিঃসরণ করে। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়। তারা আরও বলেন, শুধু রামপাল বিদ্যুেকন্দ্র নয়, ইতোমধ্যে ওরিয়নকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এসব বিদ্যুেকন্দ্র নির্মিত হলে সুন্দরবন নিশ্চিত ধ্বংসের মুখে পড়বে। ইতোমধ্যে শ্যালা নদীতে তেলের ট্যাংকার, ভোলা নদে সারবাহী জাহাজ ডুবে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে কয়লা পরিবহনের ক্ষেত্রে বিপদ কত ভয়াবহ হতে পারে।
সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আবু জাফর আহমেদ, খালেকুজ্জামান ও রুহিন হোসেন প্রিন্স প্রমুখ।
