বিদ্যুত্ ও গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৯, ২২:০৫

 

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কথা আবার শোনা যাচ্ছে। নিত্যদিনের অতীব প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাহিদার ঘাটতি এবং ভবিষ্যতে গ্যাসের ঘাটতি পূরণ এবং আমদানিকৃত এলএনজির মূল্য সমন্বয় করার অজুহাতে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে সম্প্রতি আবেদন করে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির জন্য তোড়জোড় করছে। আগামী ১১ মার্চ থেকে ১৪ মার্চ রাজধানীর কাওরানবাজরের টিসিবি অডিটরিয়ামে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ওপর গণশুনানি হবে। 

গ্যাস আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ। এই সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করা আমাদের উচিত। কিন্তু একদিকে যেমন আমরা গ্যাসের অপচয় করি, অন্যদিকে তিতাস গ্যাসের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারণে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বস্তি এবং কিছু ফ্লাট বাড়িতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এবং এই অবৈধ সংযোগের জন্য একদিকে যেমন গ্যাসের ঘাটতি হচ্ছে, আবার তিতাস গ্যাস কোম্পানি কোটি কোটি টাকা আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ও তিতাস গ্যাস কোম্পানির কাছে আবেদন থাকবে—গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব না দিয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে গ্যাসের অপচয় রোধ করুন। প্রয়োজনে কার্ড সিস্টেমে গ্যাস ব্যবহার চালু করা যেতে পারে।

আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের কথা ভেবে গ্যাসের দাম না বাড়িয়ে অবৈধ সংযোগ বন্ধ করা হলে গ্যাসের চাহিদার ঘাটতি এবং ভবিষ্যতে গ্যাসের ঘাটতি পূরণ ও আমদানিকৃত এলএনজির মূল্য সমন্বয় করার প্রয়োজন হবে না। বিদ্যুত্ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলবেন না। কার্ড সিস্টেমে গ্যাস ব্যবহার চালু করা হলে গ্যাসের চাহিদার ঘাটতি এবং ভবিষ্যতে গ্যাসের ঘাটতি পূরণ এবং আমদানি করা এলএনজির মূল্য সমন্বয় করা সম্ভব হবে।

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুযায়ী বিদ্যুতের মূল্যহার শতকরা ১৪২ শতাংশ, সাড়ে ১৫৮ শতাংশ, ক্যাপটিভ পাওয়ারে ৬৩ শতাংশ, সিএনজিতে ২৫ শতাংশ, বাসাবাড়ির এক বার্নার গ্যাসের চুলায় ৩৩ শতাংশ, দুই বার্নার গ্যাসের চুলায় ৫০ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। এতে বাসাবাড়ির এক বার্নার গ্যাসের চুলা ৭৫০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা, দুই বার্নার গ্যাসের চুলা ৮০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা হবে। এভাবে বিদ্যুত্ ও গ্যাসের দাম বাড়লে জনগণের আয়ের ওপর তার প্রভাব পড়বেই।

ঢাকা