শব্দদূষণ আইনের প্রয়োগ নেই

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৯, ২২:০৫

কমল চৌধুরী

 

শব্দদূষণ আইনের প্রয়োগ না থাকায় রাজধানীতে প্রায় ৯৬ শতাংশ মানুষ শব্দদূষণের শিকার। প্রতিনিয়ত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব যানবাহন থেকে প্রচুর শব্দদূষণ হচ্ছে। ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান যেমন হাসপাতাল ও স্কুল-কলেজের সামনেই স্থাপন করা হয়েছে বাসস্ট্যান্ড। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বারডেম, ল্যাবএইডসহ বেশ কয়েকটি হাসপাতালের সামনে বাস দাঁড়াচ্ছে। ধানমন্ডিতে পপুলার ডায়াগনস্টিকের সামনে অনেকগুলো বাস একসঙ্গে দাঁড়িয়ে ইচ্ছেমতো হর্ন বাজাচ্ছে। প্রতিটি স্থানেই আইন শৃঙ্খলা বাহিনী থাকলেও তাদের এ বিষয়ে কখনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না। দায়িত্বরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা আলাপকালে বলেন, এসব বাস ড্রাইভারকে আমরা অনেকবার নিষেধ করেছি। তারা শব্দদূষণ আইন মানতে চায় না। মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের জরিমানাও করেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।

নগরবাসীকে বাসা থেকে বের হতেই পড়তে হচ্ছে শব্দদূষণের বিড়ম্বনায়। এ বিষয়ে সরকারের একটি নীতিমালাও রয়েছে। কিন্তু এর কার্যকারিতা না থাকায় শব্দদূষণ কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। অথচ শব্দদূষণের ফলে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে কোমলমতি শিশু ও গর্ভবতী নারীরা। ভয়াবহ এই সমস্যার প্রতিরোধ ব্যবস্থা এখন সম্পূর্ণ উপেক্ষিত। উচ্চ শব্দ শারীরিক ও মানসিক উভয় ক্ষেত্রেই চরম ক্ষতিকর। শব্দদূষণের ফলে একদিকে মানুষের শ্রবণ ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে, অপরদিকে মাথা ধরা, অনিদ্রা ও হার্টের রোগসহ দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন জটিল রোগ। শব্দদূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে গাড়ির হর্নকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া যত্রতত্র কলকারখানা স্থাপন, ভবন নির্মানের সময় ইটভাঙা মেশিন থেকে শব্দদূষণ ছড়াচ্ছে। এইসব শব্দদূষণ প্রতিরোধ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

আইনানুযায়ী নগরীতে শব্দের সহনীয় মাত্রা থাকার কথা। আবাসিক এলাকার জন্য দিনে ৪৫ এবং রাতে ৩৫ ডেসিবেল, মিশ্র এলাকায় দিনে ৬০ রাতে ৫০ ডেসিবেল এবং শিল্প এলাকার জন্য ৭০ ডেসিবেল। কিন্তু এই আইন কেউই মানছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ৬০ ডেসিবেল শব্দে মানুষের সাময়িক শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দে চিরতরে শ্রবণশক্তি হারাতে পারে। হিসাব অনুযায়ী কোনো এলাকায় ৬০ ডেসিবেল মাত্রার বেশি শব্দ হলে সেই এলাকা দূষণের আওতায় চিহ্নিত হবে। অফিস কক্ষে ৩০ থেকে ৪০ ডেসিবেল, হাসপাতালে ২০ থেকে ৩৫ ডেসিবেল, রেস্তোরাঁয় ৪০ থেকে ৬০ ডেসিবেল মাত্রা সহনীয়। অথচ রাজধানীর কোথাও শব্দের মাত্রা ৬০ থেকে ৭০ ডেসিবেলের নিচে নেই। এ ব্যাপারে সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তরের যথাযথ পদক্ষেপের অভাব রয়েছে।

ঢাকা