রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেল ৪১ বীরাঙ্গনা। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাদের স্বীকৃতি দেয়া হয়। কিন্তু সেই তালিকায় নেই ভাস্কর ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণী। তিনি বলেন, 'আমি বিস্মিত। আসলে দুঃখ পাইনি। কিন্তু প্রচন্ড রাগ হয়েছে।
মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে আমি খুলনাতে ছিলাম। অক্টোবর মাসে আমাকে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমাকে ৩২ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল। তাদের পক্ষে যতভাবে অত্যাচার করা সম্ভব হয়েছিল তারা করেছে। সেই স্মৃতি সহ্য করার মত নয়।
এ সময় তিনি আরো বলেন, 'আসলে স্বীকৃতি ছাড়া সারা জীবনে কারো কাছে কিছু চাইনি। এই তালিকায় আমার নামও থাকা উচিত ছিল। বিষয়টি নিয়ে আমি দুঃখিত নই। আমি এটা নিয়ে অভিযোগও করছি না। বিষয়টিতে প্রচন্ড ক্ষুব্ধ আমি। প্রচন্ড মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে আছি আমি।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী তার হাতে স্বাধীনতা পদক তুলে দিয়েছিল জানিয়ে প্রিয়ভাষিণী বলেন, 'বীরঙ্গনা হিসেবে দেশি-বিদেশি বেশ কিছু মিডিয়াতে আমি সাক্ষাৎকার দিয়েছি। বিভিন্ন সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ১৯৯৯ সাল থেকে বীরঙ্গনাদের স্বীকৃতির জন্য কাজ করে যাচ্ছি আমি। বীরঙ্গনাদের উপর পাকিস্তানি আর্মির অত্যাচার সম্পর্কে সরকার সর্বোচ্চ তথ্য পেয়েছে আমার কাছ থেকে। অথচ এখন আমাকেই বাদ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা করা হল!"
সোমবার মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৪১ বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। কিন্তু সেই তালিকায় ছিলেন না ভাস্কর ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণী।
