‘জেএমবির পরিকল্পনায় খিজির খান হত্যা’

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৫, ২১:৪৯
 
নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির পরিকল্পনায় পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান খিজির খানকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। ডিবি সূত্রে জানা গেছে, ‘মতাদর্শের বিরোধ থেকে জেএমবির সদস্যরা খিজির খানকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তাকে হত্যার পর ঘাতকরা খানকা শরিফের দানবাক্সের টাকা লুট করে।’
 
খিজির খান হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন আসামি জেএমবির জামিনপ্রাপ্ত সদস্য তরিকুল ইসলামকে (২৩) ডিবিতে আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল দেল দুয়ারের মৌলভীপাড়া মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হওয়ার সময় তরিকুল ইসলামকে আটক করে ঢাকায় নিয়ে আসে। তার বাবার নাম আব্দুল্লাহেল বাকী ওরফে পিয়ারা মৌলভী। বাড়ি দেলদুয়ার মৌলভীপাড়ায়। ঢাকা ডিবি পুলিশ তার বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে।
 
দেলদুয়ার থানার ওসি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ঢাকা ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মৌলভীপাড়া মসজিদের সামনে থেকে তারিকুলকে আটক করে ঢাকায় নিয়ে যায়।’
 
দেলদুয়ার থানা সূত্র জানায়—তারিকুল ইসলাম ১২-১৩ বছর বয়সেই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করার সময় জেএমবিতে যোগ দেয়। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট মাসে সারা দেশে জেএমবির বোমা হামলার সঙ্গে তারিক জড়িত ছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি ঢাকায় বোমাসহ র্যাবের হাতে গ্রেফতার হন। ২০১০ সালে চট্টগ্রামে একটি বোমা বিস্ফোরণ মামলায় তারিককে ৫ বছরের জেল দেয় আদালত। বছর তিনেক পর তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে  দেলদুয়ারে নিজ গ্রামের বাড়ির একটি মাদ্রাসায় ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হন। বর্তমানে দাখিল পাস করে দেলদুয়ারের লাউহাটী আরফান আলী কলেজে ১ম বর্ষে অধ্যয়ন করছেন তারিক।
 
এ দিকে, তারিক আটকের ব্যাপারে ঢাকার ডিবির কোনো কর্মকর্তাই আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দেননি। ডিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘মতাদর্শের বিরোধ থেকে জেএমবির সদস্যরা খিজির খানকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তাকে হত্যার পর ঘাতকরা খানকা শরিফের দানবাক্সের টাকা লুট করেছিল। জেএমবি পরিচালনার জন্য তারা দানবাক্সের টাকা লুট করেছে বলে আটককৃত তারিক ডিবিকে জানিয়েছেন। এ হত্যার সঙ্গে আরো ৫-৬ জন রয়েছে। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।’
 
উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর সন্ধ্যার পর রাজধানীর জ-১০/১, মধ্যবাড্ডায় নিজের বাড়ির দোতলায় ‘রহমতিয়া খানকা শরিফ’-এ দুর্বৃত্তরা গলা কেটে হত্যা করে খিজিন খানকে।