সবক্ষেত্রে সমঅধিকার ও সমমর্যাদায় অধিষ্ঠিত হোক নারী

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৯, ২২:৪৩

সব ক্ষেত্রে নারীরা সমানতালে এগিয়ে গেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বৈষম্য-নির্যাতন আর নিরাপত্তহীনতায় থাকেন  তারা। তাই নারীদের অনেকগুলো বিষয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহবান জানিয়েছে নারী নেত্রীরা।

তারা বলেছেন— সকল ক্ষেত্রে সমঅধিকার ও সমমর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হোক। যে দেশের প্রধানমন্ত্রী নারী, সে দেশের নারীরা কি-করে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন? নারীর অধিকার হচ্ছে মানবাধিকার। আর নারীর প্রতি নির্যাতন মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এখনো নারীদের প্রতিদিন এগিয়ে যেতে হচ্ছে চরম প্রতিকূলতার ভেতর দিয়ে। শক্ত করতে হচ্ছে তাদের পায়ের নীচের মাটি। আর এ কাজে নারীকে সহযোগিতা করতে হবে ঘর থেকে।

গতকাল শুক্রবার আর্ন্তজাতিক নারী দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী আয়োজিত নানা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারিত ছিল—‘সবাই মিলে ভাবো, নতুন কিছু করো, নারী-পুরুষ সমতায় নতুন বিশ্ব গড়’।        

সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি: ‘নারী ও কন্যার প্রতি ধর্ষণসহ সকল প্রকার সহিংসতা বন্ধ কর’—শ্লোগানকে সামনে রেখে কেন্দ ীয় শহীদ মিনারে গতকাল আর্ন্তজাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পালন করেছে ৬৬টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম ‘সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি’। অনুষ্ঠানে বক্তারা ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংস আচরণের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে, সকল নাগরিকের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক সংষ্কৃতি গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন।

এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম। সমাবেশে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন দীপ্ত ফাউন্ডেশনের টেকনিক্যাল এডভাইজার মাহমুদা ইমাম। ঘোষণায় নারী ও কন্যার প্রতি ধর্ষণসহ সকল প্রকার সহিংসতা বন্ধে ২০টি দাবি তুলে ধরা হয়।

মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, এদেশে নারীদের অনেক সাফল্য আছে। নারী নির্যাতন মানবাধিকার লঙ্ঘন। অনেক সাফল্যের পরেও নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আমরা এখনো অগ্রসর হতে পারিনি। সভায় বক্তব্য রাখেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর, প্রতিবন্ধী নারীদের প্রতিনিধি মর্জিনা আহমেদ প্রমুখ।

সমাবেশে সংগীত পরিবেশন করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সানুয়ারা জাহান নিতু, মায়েশা সুলতানা উর্মি এবং আদিবাসী নারীদের সংগঠন এফ মাইনর। কবিতা আবৃত্তি করেন আফরোজা বানু।

জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম ঃ র্যালি, আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ‘নারী-পুরুষের সমভাবনা, নতুন দিনের সূচনা’— এই স্লোগানকে সামনে রেখে ব্যাপক উত্সাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০১৯ উদযাপন করেছে। রমনা পার্কের অস্তাচল গেট থেকে শুরু করে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন পর্যন্ত শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার রুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রান উদ্বোধন ঘোষণা করেন সংগঠনের  সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার। প্রধান অতিথি ছিলেন নারী নেত্রী আয়শা খানম, অতিথি ছিলেন ফোরামের সহ-সভাপতি শাহীন আক্তার ডলি। সূচনা বক্তব্য রাখেন ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি। অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ‘নারীর কথা-১৪’ নামক একটি প্রকাশনা ও আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে কেন্দ  করে প্রকাশিত পোস্টারের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

এদিকে, আর্ন্তজাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে শতাধিক সংগঠন। বিভিন্ন স্লোগানে লেখা প্লাকার্ড ও ব্যানারে সজ্জিত হয়ে একে একে মিছিল নিয়ে আসতে থাকে নারী ও পুরুষরা। সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন ও আওয়াজ ফাউন্ডেশন বিভিন্ন দাবি জানায়। ‘বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক ’এর নেতৃবৃন্দ বলেন—সমচিন্তায়, সমভাবে ও সমাজবিকাশে আদিবাসী নারীর অধিকার অর্জনে সংগ্রামী হই। ‘বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগ’ নারী শ্রমিকের স্বাস্থ্য বীমা ও পেনশন স্কীমের দাবি জানায়। ‘গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি’ নারীর সমঅধিকার ও সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবি তোলে। অন্যদিকে, ‘বাংলাদেশ গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স প্রোটেকশন এ্যালায়েন্স (বিজিডব্লিউপিএ) এর বক্তারা বলেন, অবসরপ্রাপ্ত গার্মেন্টস শ্রমিকদের এককালীন ১০ লাখ টাকা ভাতা দিতে হবে।