দোতরার সুরে বাউলের পদচারণায় জেগেছে ছেঁউড়িয়া

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৫, ২১:৫৩
 
মরমী সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের ১২৫তম স্মরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে বাউলদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া। লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়িতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দলে দলে মানুষ এখন ভিড় জমাচ্ছেন। সাঁইজির সান্নিধ্য লাভের আশায় তারা ছুটে আসছেন।
 
আগামীকাল শুক্রবার পহেলা কার্তিক। বাউল সম্রাট মহামতি ফকির লালন সাঁইয়ের ১২৫ তম তিরোধান দিবস। এদিন থেকে শুরু হচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী লালন স্মরণোত্সব। এবার উত্সবের শিরোনাম করা হয়েছে “অনুরাগ নইলে কি সাধন হয়.....” দেশের নানা প্রান্ত থেকে কয়েকদিন আগেই লালন স্মরণোত্সবে যোগ দিতে ছেঁউড়িয়ায় সমবেত হয়েছেন লালন সাধু ভক্ত অনুসারীরা। মহামতি ফকির লালন সাঁই দেহত্যাগ করার পর থেকে তাঁর ভক্ত অনুসারীরা পহেলা কার্তিক এই উত্সব পালন করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ১২৫তম তিরোধান দিবস পালিত হচ্ছে।
 
ছেঁউড়িয়ায় সাঁইজির ধামে প্রতিবছর দুটি উত্সব উদযাপন হয়। একটি মার্চ মাসে দোল উত্সব অপরটি পহেলা কার্তিক ১৬ অক্টোবর সাঁইজির তিরোধান দিবস। দুটি উত্সবই পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়।
 
বৃহস্পতিবার দুপুরেই আখড়ায় গিয়ে দেখা মিললো নানা পদের বাউলদের। যারা সারাজীবন উত্সর্গ করেছেন লালনের দর্শনের সন্ধানে। এসব বাউলদের কেউ কেউ এসেছে দল বেঁধে আবার কেউ কেউ এসেছে একাই। তাদের এই আসার জন্য ছিলো না কোন দাওয়াত পত্র, না ছিলো নিমন্ত্রণ। তবুও ছুটে আসা। স্মরণোত্সবে প্রতিবছরের মতো এবারো সাধক লালনের আধ্যাত্মিক দর্শন লাভের আশায় দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ প্রাণের টানে ছুটে এসেছেন আখড়ায়। একতারা, দোতারা, ঢোল ও বাঁশির সুরে মুখরিত হয়ে উঠেছে লালনভূমি ছেঁউড়িয়া।
 
লালন আখড়া বাড়ির উন্মুক্ত চত্ত্বরে লালন একাডেমির আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে আলোচনা, লালন মেলা ও লালন সংগীত। আজ সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে লালন স্মরণোত্সব উদ্বোধন করবেন কুষ্টিয়া-৩  আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব-উল আলম হানিফ।
 

লালন একাডেমির সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) সেলিম হক ইত্তেফাককে জানান, প্রতিবারের মতো এবারও আগত সাধুভক্তদের জন্য সকল সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। আসতে শুরু করেছে দেশ-বিদেশ থেকে লালনভক্তবৃন্দ।