নির্যাতন বন্ধ করতে হবে :আইনমন্ত্রী

নারী বিচারকরা দায়িত্ব পালনে দক্ষতার পরিচয় রেখেছেন ------ প্রধান বিচারপতি

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৯, ২২:৪৫

নারী বিচারকদের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, সর্বোচ্চ শ্রম, ন্যায়, নিষ্ঠা এবং মেধা-মননের সমন্বয়ে গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। বিচার বিভাগের সুনাম বৃদ্ধি ও সম্মান রক্ষায় প্রত্যেককেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখতে হবে। তিনি বলেন, অধিকাংশ নারী বিচারক তাদের দায়িত্ব পালনে যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় রেখেছেন। স্বামী-স্ত্রী উভয়ে বিচারক, এমন কর্মকর্তাদেরকে একই কর্মস্থলে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ মহিলা জজ এসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, নারীর সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার রক্ষায় সুপ্রিম কোর্ট নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমেই নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। বর্তমানে সরকারি ও  বেসরকারি উদ্যোগের ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর প্রভূত উন্নতি সাধন হয়েছে। শিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের সাফল্য ও অগ্রগতি ইতিবাচক। পোশাক শিল্পে নারীদের ভূমিকা সকল মহলে প্রশংসিত। তাদের ন্যায্য মজুরি, সুস্থ কর্ম পরিবেশ, মর্যাদা ও অধিকার বাস্তবায়িত হলেই আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন সার্থক হবে। অধিকার রক্ষায় নারীদের যে সংগ্রাম, সে সংগ্রামে নারীরা কখনো একা নয়। রাষ্ট্রের সকল বিভাগ নারীর অধিকার রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, নারীদের অংশগ্রহণ সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেও তারা এখনও নির্যাতিত হচ্ছে ঘরে ও ঘরের বাইরে। এ নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। নারীরা পরিবার তথা সমাজ ও জাতির মূল চালিকা শক্তি। তাই আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে নারীর অধিকার সুনিশ্চিত করার জন্য নারী বিচারকদের আন্তরিক হতে হবে। আইনমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের সব সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিচারকর্ম বিভাগও এ উন্নয়নের অংশীদার। তাই বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি ও বিচারপ্রার্থী জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য নারী বিচারকদেরকে স্বীয় মেধা, মনন ও কৌশল প্রয়োগ করতে বলেন তিনি।

ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজক সংগঠনের সভাপতি তানজীনা ইসমাইলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা ও বর্তমান বিচারপতি জিনাত আরা, সলিসিটর জেসমিন আরা বেগম প্রমুখ।