পৃথিবীতে একটি স্থান আছে যেখানে পরমাণু যুদ্ধ বাঁধতে পারে। তবে উত্তর কোরিয়া নয়। স্থানটি হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশি ভারত ও পাকিস্তান। দুই দেশেরই পরমাণু অস্ত্র আছে। কাশ্মির ইস্যুর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দেশ দুটির মধ্যে পরমাণু যুদ্ধের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। মার্কিন প্রভাবশালী পত্রিকা নিউ ইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয়তে এসব মন্তব্য করা হয়েছে।
এদিকে টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভি জানিয়েছে, ভারত রাশিয়া থেকে অত্যাধুনিক সাবমেরিন ভাড়া করার চুক্তি করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কাশ্মিরীদের নিরাপত্তা দিতে রাজ্য সরকারগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, কোনো সন্ত্রাসী গ্রুপ পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে পারবে না।
সম্পাদকীয়তে যা বলা হয়েছে
বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রকে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অথচ পরমাণু অস্ত্রের বিনিময় হতে পারে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে। দুই দেশের মধ্যে শত্রুতার সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে। গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাত দেখা দেয়। তবে সৌভাগ্যজনকভাবে পরিস্থিতি এখন শান্ত। কিন্তু আপাতত ‘শান্ত পরিস্থিতি’ দুই দেশের সমস্যার সমাধান বয়ে আনবে না। বিশেষ করে দুই দেশ কাশ্মিরের ভবিষ্যত নিয়ে ঐকমত্যে না পৌছানো পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হবে না। তাদের মধ্যে অপ্রত্যাশিত এবং ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, সামপ্রতিক সংঘাতের শুরু গত ১৪ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন কাশ্মিরে জঙ্গি হামলায় ৪০ জনের বেশি ভারতীয় সেনা নিহত হয়। পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জয়শ-ই-মোহাম্মদ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে। সংগঠনটি কাশ্মিরকে পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র এবং পাকিস্তানে সংগঠনটি নিষিদ্ধ। কিন্তু পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা তাদের প্রশ্রয় দেয় এবং অস্ত্র সরবরাহ করে। পাকিস্তানে সমপ্রতি ভারতের বিমান হামলা পরবর্তী পরিস্থিতির কথা সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করার পর লেখা হয়, ৭০ বছরের বেশি সময়ে দুই দেশ তিনবার বড় যুদ্ধের সম্মুখীন হয়েছে। যুদ্ধের আশংকায় দুই দেশ প্রায়ই সীমান্তে সৈন্য মোতায়েন রাখে। তবে দুই সরকারের মধ্যে সংলাপ হওয়ার ঘটনা খুবই কম।
সম্পাদকীয় বোর্ড লিখেছে, বর্তমান উত্তেজনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পাকিস্তানবিরোধী মন্তব্য করে হিন্দু জাতীয়তাবাদকে উত্সাহিত করছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান শান্তির বার্তা দিতে আটক পাইলটকে মুক্তি দেন। আর প্রধানমন্ত্রী মোদী উত্তেজনা কমাতে সেই সুযোগকে গ্রহণ করেন। ভারতে হামলা চালায় এমন জঙ্গি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয় না উল্লেখ করে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, এবার ইমরান খানের সরকার জয়শ প্রধানের ভাই এবং ছেলেকে আটক করার কথা বলেছে। তবে দেশটি এ ইস্যুতে শেষ পর্যন্ত অঙ্গীকার খুব একটা রক্ষা করে না। পত্রিকাটি সতর্ক করেছে, দীর্ঘদিনের এই সংঘাত আন্তর্জাতিক চাপ ছাড়া নিরসন হবে না। ফলে পরমাণু যুদ্ধের হুমকিও থাকবে। পরমাণু যুদ্ধ এড়াতে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ভূমিকা পালনের কথা বলা হয়েছে সম্পাদকীয়তে।
রুশ সাবমেরিন আনছে ভারত
২১ হাজার কোটি রূপি দিয়ে একটি পরমাণু অস্ত্রবাহী অত্যাধুনিক সাবমেরিন যুক্ত করা হচ্ছে ভারতীয় নৌ বাহিনীর অস্ত্রভান্ডারে। রাশিয়া থেকে এই সামরিক ডুবোজাহাজ দশ বছরের জন্য ভাড়া নিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে ভারত। আকুলা পর্যায়ের এই চক্র-৩ অ্যাটাক সাবমেরিন ভারতের হাতে আসবে ২০২৫ সালের মধ্যে। অন্যদিকে বেশ কয়েকদিন ভারতের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনার পর অবশেষে বিমান চলাচলের জন্য আকাশসীমা গতকাল পুরোপুরি খুলে দিয়েছে পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্র জঙ্গিদের প্রতি ভূমিকা নিয়ে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র রবার্ট প্যালাডিনো বলেন, আমেরিকা সবসময় সন্ত্রাস প্রতিরোধে পাকিস্তানের ভূমিকার উপর নজর রাখছে।
