নগর সংস্কৃতি

সংগীতে বাংলা ও ফরাসি সৌরভ

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৯, ০০:৩৫

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ফরিদা পারভীন গাইলেন লালনের গান, বাংলাদেশি কবিতায় ফরাসি সুর বসিয়ে গাইলেন ফরাসি শিল্পীরা। বাংলা ও ফরাসি সংগীতের সৌরভময় সংগীতানুষ্ঠানটির নাম ছিল ‘স্কেল টু স্কেল’। শুক্রবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ।   

এই ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানটি দুটি মহাদেশ, দুিট সংস্কৃতি, দুই সময়কাল-এর এক সম্মীলন। ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি সংগীতের সঙ্গে সাম্প্রতিক ফরাসি সুরস ষ্টা ল্যোহঁ ক্যুনিও এর সমকালীন সৃষ্টির এক সুরের কথোপকথন। এ যেন কিংবদন্তি বাংলাদেশি সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন ও তার দল এবং ফরাসী শিল্পী আধুম তাংক ও তার সংগীতদল টিএমপ্লাস-এর সুরশিল্পীগণকে সঙ্গী করে সংগীতের এক আনন্দময় ভ্রমণ। অতিন্দ্রীয় দার্শনিক লালন শাহ-এর গানের পাশাপাশি বাংলাদেশের কবি মোহাম্মদ মনসুরের কবিতার ফরাসি অনুবাদ থেকে রূপান্তরিত গানগুলো শুনিয়েছেন শিল্পীরা।

‘লালন সম্রাজ্ঞী’ ফরিদা পারভীন গেয়ে শোনান ‘খাঁচার ভিতর অচীন পাখি’, ‘জাত গেল জাত গেল বলে’, ‘বাড়ির কাছে আরশীনগর’সহ আরো কিছু গান। টিএমপ্লাসের শিল্পী আধুম তাংকের ফরাসি ভাষায় গাওয়া কয়েকটি গানের বাংলা শিরোনাম ছিল ‘আমি আকাশ আর দেখি না’, ‘আমার তো আর চাই না কিছু, ‘এক জীবনে একটুকু ক্ষণ’ ও  ‘তুমি আমার জলবৃষ্টি’। ২৯ সদস্যের ফরাসী সংগীতদল টিএমপ্লাসে ক্লারিওনেট বাজিয়েছেন নিকোলা ফাজে, ওবোতে সুর তুলেছেন জাঁ পিয়েখ আহনোঁ ও চেলে বাজিয়েছেন ফ্লোরিও লোহিদো। ফরিদা পারভীনের সঙ্গে বাঁশিতে সুর তুলেছেন গাজী আবদুল হাকিম। এএসএম রেজার ঢোলে দোতারায় সুর ছড়িয়েছেন শেখ জালালুদ্দিন আর তবলায় ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি।

হাতিরঝিলে সংস্কৃতির ঢেউ:হাতিরঝিলের এম্ফিথিয়েটারে তিন দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উত্সবের দ্বিতীয় দিনেও ছিল বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক আয়োজন। গতকাল শুক্রবার আয়োজনের শুরুতে সরকারি সংগীত কলেজের শিল্পীদের অংশগ্রহণে যন্ত্রসংগীত পরিবেশিত হয়। নারী দিবসকে কেন্দ্র করে মাহফুজা হিলালীর গ্রন্থনা এবং লিয়াকত আলী লাকীর পরিকল্পনায় বিশেষ পরিবেশনা ‘মহিয়সী নারী’ প্রদর্শিত হয়। এরপর শিশু সংগীতদল পরিবেশন করে লিয়াকত আলী লাকীর কথা ও সুরে দলীয় সংগীত ‘এ মাটি নয় জঙ্গিবাদের..’। আইরিন পারভীনের পরিচালনায় ‘মঙ্গল হোক..’ গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করে একাডেমির নৃত্যদল। ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার..’ গানের সাথে দীপা খন্দকারের পরিচালনায় নৃত্য পরিবেশিত হয়। ‘বিশ্বের সকল মাতৃভাষা রক্ষা করবে বাংলাদেশ’ শিরোনামে শিল্পী শামছি আরা সাইকা ও কারুল হাসান ফেরদৌসের পরিচালনায় কোরিওগ্রাফি পরিবেশিত হয়। লিখন রায়ের পরিচালনায় দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যকথা। সামিনা হোসেন প্রেমার পরিচালনায় নৃত্য পরিবেশন করে একাডেমির নৃত্যদল।

আমন্ত্রিত শিল্পীদের মধ্যে একক সংগীত পরিবেশন করেন ইউসুফ খান, অনুপমা মুক্তি, বিউটি, প্রিয়াংকা বিশ্বাস ও শ্রী কৃষ্ণ গোপাল। একাডেমির শিশু অ্যাক্রোবেটিক দল পরিবেশন করে রোপ স্কুস, জার অ্যান্ড স্টিক ব্যালেন্স, পাইপ ব্যালেন্স, লেডার ব্যালেন্স, সাইকেল ব্যালেন্স, মার্শাল আর্ট ও রোলার ব্যালেন্স। একাডেমির বাউল দলের দলীয় পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও জনপ্রিয় ব্যন্ডদল জলের গান-এর পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।