যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মুক্ত থাকার আশ্বাস পেয়ে ১৫৬ ঘন্টার অনশন ভেঙ্গেছেন বাংলাদেশের আশ্রয়প্রার্থীরা। দেশটির টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের এল পাসো ডিটেনশন সেন্টারে এই দাবিতে ৪৮ জন বাংলাদেশী গত ১৪ অক্টোবর থেকে অনশন করছিলেন।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের মধ্যস্থতায় মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টায় তারা অনশন ভাঙেন। দূতাবাসের মিনিস্টার (কনস্যুলার) শামসুল আলম চৌধুরী জানান, কয়েকটি শর্তে ওই ডিটেনশন সেন্টারের ৪৮ বাংলাদেশি বন্দির সবাইকেই মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট কর্তৃপক্ষ। দেশে ফেরত পাঠানো ঠেকাতে গত ১৪ অক্টোবর অনশন শুরু করেন বাংলাদেশিসহ ৫৪ জন। এদের মধ্যে থেকে দুইদিন পর ১১ বাংলাদেশিকে মুক্তি দেওয়া হয়। এছাড়া আরও ১৪ জনকে স্থানান্তর করা হয় লুইজিয়ানায়। তারাও অনশনে রয়েছেন। তাদের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
গত কয়েকদিন ধরে বন্দিদের অনশনের খবর গণমাধ্যমে আলোচিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ১৯ অক্টোবর এল পাসো ডিটেনশন সেন্টারে যান বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা শামসুল আলম চৌধুরী। দীর্ঘ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়, বাংলাদেশ দূতাবাস সব বন্দির জন্যে পাসপোর্ট দেবে এবং প্রত্যেক বন্দির মুক্তির জন্যে একজন করে ‘স্পন্সর’ লাগবে, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী কোনো বাসিন্দা তাদের জন্য মুচলেকা দেবেন। এরপর শারীরিকভাবে সুস্থ কিনা তা পরীক্ষা করে বাংলাদেশি বিন্দিদের মুক্তি দেওয়া হবে। অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর তারা রাজনৈতিক আশ্রয়ের যে আবেদন করেছেন, তারও শুনানি হবে। এর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা জামিনে মুক্ত থাকবেন। এ সময়ে তারা ওয়ার্ক পারমিট ও সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর পাবেন। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই সমঝোতার পর ফলের রস পান করিয়ে আন্দোলনরতদের অনশন ভাঙান শামসুল আলম চৌধুরী। লুইজিয়ানায় অনশনরত ১৪ বাংলাদেশির বিষয়েও দূতাবাসের মধ্যস্থতায় আলোচনা শুরুর প্রক্রিয়া চলছে।
