দশ লাখ অবৈধ রিকশা ঢাকায়

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৫, ০১:৫২

অবৈধ রিকশার ছড়াছড়ি রাজধানীতে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) গবেষণা মতে, নগরীতে বৈধ রিকশা রয়েছে মাত্র ৮০ হাজার, আর অবৈধ ১০ লাখ। এই অবৈধ রিকশা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে ২৮টি চক্র। খোদ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, ঢাকার দুই সিটিতে এক লাইসেন্সেই চলছে ৫০টি রিকশা। এতে বিশাল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সিটি করপোরেশন। অন্যদিকে, অতিরিক্ত রিকশায় যানজট বাড়ছে।

 
জানা যায়, অবিভক্ত সিটি করপোরেশন সর্বশেষ ১৯৮৭ সালে নতুন রিকশার লাইসেন্স প্রদান করে। ওই সময় রাজধানীতে মোট নিবন্ধিত রিকশার সংখ্যা ছিল প্রায় ৮০ হাজার। নতুন রিকশার লাইসেন্স প্রদান করা না হলেও রাজধানীতে অবৈধ রিকশার সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে। নতুন নিবন্ধন দেয়া বন্ধ থাকায় বর্তমানে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ সরকারি কোনো সংস্থার কাছে রাজধানীতে অনিবন্ধিত রিকশার সঠিক পরিসংখ্যান নেই।
 
বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, রাজধানীতে অনিবন্ধিত রিকশার সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। তবে সিটি করপোরেশনের নিবন্ধন না পাওয়া এসব রিকশা রাজধানীতে চলাচল করছে প্রায় ২৮টি চক্রের অধীনে। এসব চক্রের মাধ্যমে মালিকদের রাজধানীতে নতুন রিকশা নামাতে হচ্ছে।
 
এসব চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছে প্রধানত বাংলাদেশ রিকশা ও ভ্যান মালিক ফেডারেশন, জাতীয় রিকশা-ভ্যান শ্রমিক লীগ ও বাংলাদেশ রিকশা মালিক লীগ। তবে বাংলাদেশ রিকশা ও ভ্যান মালিক ফেডারেশনের অধীনে কতগুলো রিকশা আছে তার সঠিক সংখ্যা জানা নেই এই চক্রের হোতাদের।
 
বাংলাদেশ রিকশা ও ভ্যান মালিক ফেডারেশনের সভাপতি আরএ জামান জানান, ১৯৮৭ সালের পর রাজধানীতে নতুন করে রিকশার কোনো নিবন্ধন দেয়া হয়নি। বার বার সিটি করপোরেশন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তবে তারা নতুন রিকশার নিবন্ধনের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্তে আসেনি।
 
বুয়েটের গবেষণায় বলা হয়েছে, রাজধানীতে প্রতিদিন যানবাহনের প্রায় সোয়া দুই কোটি ট্রিপ (এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছানো) তৈরি হয়। আর এর মধ্যে শুধু রিকশায় তৈরি হচ্ছে ৭৬ লাখ ট্রিপ।
 
বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ এ প্রসঙ্গে জানান, আমরা রিকশা মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি প্রতিটি নতুন রিকশার জন্য তিন হাজার টাকা ফি দিয়ে রিকশা ও ভ্যানগাড়ি মালিক সমিতির কাছ থেকে নিবন্ধন নেয়া হয়। আর বছর শেষে নিবন্ধন নবায়নও করতে হয়।
 
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল এ প্রসঙ্গে বলেন, ১৯৮৭ সালে প্রায় ৮০ হাজারের মতো রিকশার নিবন্ধন দেয়া হয়েছে। এখন ওই সব রিকশারই নিবন্ধন নবায়ন করা হচ্ছে। নতুন করে কোনো রিকশার নিবন্ধন দেয়া হয় না প্রায় ২৮ বছর।
 
তিনি বলেন, আসলে রিকশার ব্যাপারে এককভাবে সিটি করপোরেশন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কারণ কয়েকটি সংস্থাও রাজধানীর সড়কের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়। এখন সমন্বিতভাবে আলোচনা করে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
 
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মমতাজ উদ্দিন জানান, আশির দশক থেকে রিকশার নিবন্ধন দেয়া বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে বহু রিকশা অবৈধভাবে নামানো হয়েছে। রিকশাকে আমরা নিরুত্সাহিত করছি।
 
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম এনামুল হক জানান, রাজধানীতে নতুন করে আর কোনো রিকশার নিবন্ধন দেয়া হবে না। রিকশার বদলে তিন চাকার অটোজাতীয় গাড়ি চলাচলে উত্সাহিত করা হবে।
 

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বলেছেন, রাজধানীতে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ রিকশা রয়েছে। যার মধ্যে লাইসেন্স রয়েছে ৮০ হাজার রিকশার। তবে এর মধ্যে এক লাইসেন্সে ৫০টি রিকশা চলছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।