কবিতা, আলোচনায় জীবনানন্দ স্মরণ

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৫, ০১:৫৯

আলোচনা, বিশেষ বক্তৃতা ও কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে ৬১তম জন্মবার্ষিকীতে কবি জীবনানন্দ দাশকে স্মরণ করেছে জাতীয় জাদুঘর। গতকাল শুক্রবার বিকালে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণানুষ্ঠান।
 

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি এম. আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব আকতারী মমতাজ। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী।

বিশেষ বক্তৃতায় হাসান আজিজুল হক বলেন, আমার ব্যক্তিগত বিবেচনায় বাংলা ভাষায় রবীন্দ্রনাথের পর প্রধান কবি জীবনানন্দ দাশ। তিনি সারা জীবনই ছিলেন নিভৃতচারী। তাঁর সকল কাজে নিভৃতির ছাপ রয়েছে।

আলোচনা পরবর্তী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জীবনানন্দ দাশের কবিতা আবৃত্তি করেন কবি নির্মলেন্দু গুণ, লায়লা আফরোজ, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, সৈয়দ হাসান ইমাম, আকতারী মমতাজ, বেলায়েত হোসেন, ড. রণজিত্ কুমার বিশ্বাস, সুবর্ণা নওয়াদীর, মনজুরুর রহমান, আশরাফুল আলম প্রমুখ।

ভাস্কর আবদুর রাজ্জাক স্মরণ

ভাস্কর আব্দুর রাজ্জাকের দশম মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নগর গবেষণা কেন্দ্র। গতকাল বিকালে ধানমন্ডির নগর গবেষণা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় এ স্মরণানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে বক্তাদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে শিল্পীর ব্যক্তি ও কর্মজীবনের নানা অনুষঙ্গ।

নগর গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান নগরবিদ ও শিল্পসমালোচক অধ্যাপক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভাস্কর আব্দুর রাজ্জাকের কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করেন অধ্যাপক সমরজিত্ রায় চৌধুরী, অধ্যাপক বুলবন ওসমান, অধ্যাপক মিজানুর রহিম, অধ্যাপক হামিদুজ্জামান খান, স্থপতি সালমা এ. শফি, স্থপতি আব্দুস সালাম প্রমুখ।

প্রসঙ্গত ১৯৩২ সালে শরিয়তপুরে জন্মগ্রহণ করেন ভাস্কর আবদুর রাজ্জাক। বাংলাদেশে তিনিই প্রথম চারুকলায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। ১৯৮৯ সালে তিনি একুশে পদক পান। ২০০৫ সালের ২৩ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ডিআরইউ শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক উত্সব

আনন্দমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র (ডিআরইউ) সদস্যদের সন্তানদের নিয়ে শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক উত্সব। সঙ্গীত, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা দিয়ে সাজানো ছিল দিনব্যাপী এ উত্সব।

গতকাল সকাল ১০টায় ডিআরইউ প্রাঙ্গণে শিশুদের সঙ্গে নিয়ে বর্ণিল বেলুন উড়িয়ে উত্সব উদ্বোধন করেন নন্দিত শিল্পী হাশেম খান।

এ সময় বক্তব্য রাখেন ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব আবদুল জলিল ভুঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলতাফ মাহমুদ, ডিআরইউ’র সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আজিজুল পারভেজ।

বিকালে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

প্রতিটি বিষয়ে বয়সভিত্তিক তিনটি গ্রুপ মোট ২৭টি পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কার হিসেবে দেয়া হয়, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আবক্ষ ভাস্কর্য, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাস্কর্য ও লালন সাইজির ভাস্কর্য। সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে দেয়া হয় ভাস্কর্য ‘দূরন্ত’।

বিচারক হিসেবে ছিলেন চিত্রাঙ্কনে চিত্রশিল্পী মনিরুজ্জামান, আবৃত্তিতে রফিকুল ইসলাম, তামান্না তিথি ও ফয়জুল আলম পাপ্পু এবং সঙ্গীতে স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী তিমির নন্দী, কণ্ঠশিল্পী ডা. মাহজাবিন রহমান শাওলি ও অলক দাশগুপ্ত।

ডিআরইউ’র সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী তিমির নন্দী ও ডিআরইউ’র সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক আজিজুল পারভেজ।

অনুষ্ঠানে রাশেদ খান মেনন বলেন, সুন্দর দেশ গঠন করতে হলে শিশুদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে হবে। সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমেই শিশুদের প্রকৃত বিকাশ সম্ভব। সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমেই শিশুদের মধ্যে মানবিক বোধ তৈরি হবে। রাশেদ খান মেনন শিশুদের নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য উত্সব আয়োজনের জন্য ডিআরইউ-কে ধন্যবাদ জানান। এই উত্সবের জন্য মন্ত্রী তার মন্ত্রণালয় থেকে প্রতি বছর ১ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।