শফিকুল ইসলাম শফিক
ছোটবেলা ছিল অনেক মজার ও সুন্দর দিন। তখন জীবনের সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল। তখনকার চাহিদার হিসাব ক্যালকুলেটরে মিলানোই ভার। আমার চাহিদা ছিল হাতঘড়ি। বড় ভাইয়ের চাহিদা ছিল রেডিও। এসএসসি পাস করেই বাবার কাছে বায়না ধরলাম। হাতঘড়ি পেলে মন দিয়ে পড়ব। নইলে পড়ব না। ভালো রেজাল্টের পর বাবা আমাদের বায়না পূরণ করে দিলেন। দিন যত যায়, খুনসুঁটি তত বাড়ে। আমাদের প্রচণ্ড জেদ ছিল। সে আমাকে গান শুনতে দেয় না। আমিও তাকে হাতঘড়ি দিই না। এমনকি কারও ভলো কেউ সহ্য করতে পারতাম না।
উচ্চশিক্ষার জন্য শহরে গুটি গুটি পা বাড়ালাম। আমরা দুই ফ্রেন্ড একসাথে থাকি। প্রথম প্রথম মেসে ছিলাম। কিছুদিন পর একটি বাসা ভাড়া নিলাম। ঘরের দেয়ালে বন্ধুর একটি দেয়াল ঘড়ি টানানো ছিল। তাকে বলতাম, তোর দেয়াল ঘড়ির মতো সুন্দর ঘড়ি জীবনেও দেখিনি। ঘরটা ভালোয় মানিয়েছে। কথাগুলো তাকে বারবার বলতাম। সে বুঝেও না বোঝার ভান করে। কত জন্মদিন যায়, তবু সে আমাকে ঘড়িটা উপহার দেয়নি। তাকে ঘড়ি উপহার দিতে কে বারণ করেছে?
একদিন এক বন্ধু হঠাত্ চশমা পরে আমার বাসায় এল। বললাম, তোকে তো চিটার-বাটপার মনে হচ্ছে। পুলিশ ধরলে রক্ষা নাই।
বন্ধু সঙ্গে সঙ্গে আমাকে চশমাটি উপহার দিল। আজকাল এমন বন্ধু সবার ভাগ্যে জোটে না। খুশির ঠেলায় নাচতে লাগলাম।
কিছুদিন আগে চশমার ফ্রেম ভেঙে গেছে। দোকানে মেরামত করতে গেলাম। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। অবশেষে নতুন একটি চশমা কিনলাম। ব্যাগে না ভরে চোখে দিলাম। নিজেকে এখন খুব স্মার্ট স্মাট মনে হয়।
আমার প্রাইভেটের প্রিয় একটি ব্যাচ আছে। মিনা, রিনা ও রাজু। তিনজন একসাথে পড়ে। তাদের কাছে আমি সবচেয়ে ফ্রি ছিলাম। খুব হাসি-তামাশা করে প্রাইভেট পড়াই। এক কথায় ছাত্র-শিক্ষক চারশ বিশ। আজকাল সবাই এমন সুযোগ পায় না। সে জন্য আমি তাদের ছাড়তে পারি না। তারাও আমাকে ছাড়ে না। বেতন হোক যেমন তেমন, প্রাইভেট হোক মনের মতো। প্রতিদিন এলাহি নাশতার আয়োজন। একদিন রিনার হাতে ঘড়ি দেখে টাসকি খেলাম। ঘড়িটা মানাইছে বটে। বললাম, আমার কিন্তু ঘড়ি নেই। হাতে ঘড়ি থাকলে খুব বিরক্ত লাগে।
অপেক্ষায় আছি, সেই বন্ধুটির মতো তারাও আমার হাতে কিছুমিছু ধরিয়ে দেয় কি না!
কনইল, নওগাঁ
