কাজী সুলতানুল আরেফিন
নাহিদার আসন্ন জন্মদিন নিয়ে খুবই চিন্তিত ছিলাম। এদিক, ওদিক আর সেদিক ঘুরে শুধু ভাবতে লাগলাম তাকে জন্মদিনে কী উপহার দেওয়া যায়। পকেটের অবস্থা ধূ-ধূ মরুভূমির মাঠ। দীর্ঘ সাড়ে চার বছরের প্রেম। কোনো জন্মদিনেই তাকে উইশ করা হয়ে ওঠেনি। এবার মনস্থির করেই নিলাম।
আমতলা, বাঁশতলা, তালতলা, বেলতলা, তেঁতুলতলা সব তলায় বসে একাগ্র চিত্তে ভাবতে লাগলাম কিভাবে তাকে উইশ করা যায়! উপহার না হয় বন্ধুদের থেকে ধার করে কেনা যাবে। পরে কিস্তি কিস্তি পরিশোধ করে দেব! ঠিক এনজিওদের ঋণ পরিশোধের মতো। আমি তো বন্ধুদের থেকে ঋণ করলেই সেরে যাবে। কিন্তু আমার এক বন্ধু প্রেমিকাকে উপহার দিতে দিতে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন সব ছাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত এই এনজিও থেকেই ঋণ নিতে হয়েছিল। আসল কথায় আসি। উপহার কিনব ঠিকই কিন্তু উইশ করতে গেলে বিপত্তি। খুলেই বলি। নাহিদার পিঠাপিঠি বড় বোন মাহমুদা। নাহিদা থেকে এক বছরের বড়। বড়ই দজ্জাল প্রকৃতির। বদ মেজাজি। আমাকে এক্কেবারেই সহ্য করতে পারে না।
যাহোক, কিছু ফুল আর একটা চমত্কার হাত ঘড়ি নিয়ে চুপি চুপি সন্ধ্যাবেলায় চোরের মতো তাদের ঘরে গেলাম। গিয়ে দেখি নাহিদা অর্থাত্ আমার ভবিষ্যত্ পেয়ারা বিবি নিজের প্রিয় চাদরখানা গায়ে জড়িয়ে মুখমণ্ডলসহ ঢেকে শুয়ে আছে। আশপাশ ভালো করে দেখলাম সে দজ্জাল মেয়েটা নেই! এ সুযোগে আমি হাঁটু গেঁড়ে নাহিদার খাটের পাশে বসে সবে গান শুরু করেছি, ‘জন্মদিনে কী আর দেব তোমায় উপহার... বাংলায় নাও ভালোবাসা...।’
সাথে সাথে নাহিদার বড় বোন মাহমুদা মুখ থেকে চাদর সরিয়ে বলল, ‘কোন শালারে?’
আমি জন্মদিনের উপহার ফেলে রেখে ভোঁ-দৌড় লাগালাম। জান বাঁচানোর দৌড়! ভীষণ মিস্টেক হয়ে গেছে। নাহিদার চাদর গায়ে দিয়ে মাহমুদা শুয়ে ছিল। তবে নাহিদা বেগমের হাতে আমার উপহার পৌঁছেছিল শুনে মনে শান্তি পেয়েছিলাম। মেয়েটা বদ মেজাজি হলেও কারও কিছুর ওপর লোভ ছিল না। তাই নাহিদার হাতে উপহারগুলো দিয়ে বলেছিল, ‘এগুলো মনে হয় তোর জন্মদিনের উপহার!’
পূর্ব শিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী।
