স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিয়ো হোশি হত্যার ঘটনায় সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল। পুলিশ তাকে খুঁজছে। তবে তার অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি। গতকাল বুধবার ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একটি পত্রিকায় নাম এসেছে বিএনপি নেতা ও বাড্ডা এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার কাইয়ুমের। তিনি সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন। তবে শুধু কাইয়ুম নয়, সন্দেহের তালিকায় আরও অনেকে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, জাপানি নাগরিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিপূর্বে গ্রেফতার হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেলের ভাই রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য রাশেদ-উন নবী খান বিপ্লবসহ ২ জন।
এদিকে বৈঠক শেষে মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, বাংলাদেশে বিদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন দেশের জারি করা সতর্কতার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমু বলেন, শঙ্কা থাকলে তারা (বিদেশিরা) আছে কীভাবে?’
সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ড, এএসআই হত্যা, পুরান ঢাকার হোসেনী দালানে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে বোমা হামলা বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী আরো বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পরবর্তী সময়ে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করেছিল, তারাই এখন বিচ্ছিন্নভাবে নানা ঘটনা ঘটাচ্ছে। ২০১৪ সালের মতোই এসব দমনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে রয়েছি, এটা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে কাজ করছি। জঙ্গি-সন্ত্রাসী কার্যক্রমে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
সভায় আগামী জানুয়ারি ২০১৬ মাসকে মাদকদ্রব্য বিরোধী প্রচারাভিযান মাস হিসাবে ঘোষণা করার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হয়েছে: মাদকের কুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ,পুলিশ মহা-পরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, র্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ছাড়াও আনসার ও ভিডিপি, বিজিবি, কোস্টগার্ড, এনএসআই’র মহাপরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা।