ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৫, ০৩:০২

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে প্রথমবারের মতো দুজন নারী শিক্ষানবিশ পাইলটের সফল একক ও দ্বৈত উড়ান সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর পুরাতন এয়ারপোর্ট আর্মি এভিয়েশন গ্রুপ গ্রাউন্ডে সফলভাবে এই একক ও দ্বৈত উড্ডয়ন পরিচালনা করেন ক্যাপ্টেন নাজিয়া নুসরাত হোসেন ও ক্যাপ্টেন শাহরিনা বিনতে আনোয়ার। সেসনা ১৫২ অ্যারোপেক প্রশিক্ষণ বিমানের মাধ্যমে তৈরি হয় এই ইতিহাস। দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত এই দুই নারী পাইলট আকাশে উড়েন।

 
ক্যাপ্টেন নাজিয়া নুসরাত হোসেন ২০০৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর ৬১তম বিএমএ দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে কমিশন লাভ করেন। কোরের সকল আবশ্যিক কোর্স শেষ করে ২০১৪ সালের ১৬ নভেম্বর আর্মি এভিয়েশন বেসিক কোর্স-৯ এ যোগদান করেন তিনি। এরপর চলতি বছরের ১৮ জুন তার উড্ডয়ন দক্ষতা প্রমাণ করতে প্রথমবারের মতো একক উড্ডয়ন সম্পন্ন করেন নাজিয়া।
 
অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ক্যাপ্টেন নাজিয়া নুসরাত হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল আকাশে উড়বো। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ফ্লাইং শুরু হয়। এটা আসলেই চ্যালেঞ্জিং ছিল। এতো ভালো লাগছে যে প্রকাশের ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। মা-বাবা এবং স্বামী মেজর মাহমুদ সবসময় উত্সাহ যুগিয়েছেন। প্রশিক্ষকরা সহায়তা করেছেন।    অন্যদিকে ক্যাপ্টেন শাহরিনা বিনতে আনোয়ার ২০০৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর ৬১তম বিএমএ দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অর্ডন্যান্স কোরে কমিশন লাভ করেন। কোরের সকল আবশ্যিক কোর্স শেষ করে ২০১৪ সালের ১৬ নভেম্বর তিনিও আর্মি এভিয়েশন বেসিক কোর্স-৯ এ যোগদান করেন। চলতি বছরের ৩০ জুন প্রথম একক উড্ডয়ন সম্পন্ন করেন তিনি।
 
অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ক্যাপ্টেন শাহরিনা বিনতে আনোয়ার বলেন, পাখির মতো আকাশে উড়েছি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন নারী। তিনি কঠোর পরিশ্রম করে দেশ চালান। নারীদের আর ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। মা-বাবা এবং স্বামী বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট খালিদ সবসময় উত্সাহ দিয়েছেন। উত্সাহ দিয়েছেন সহকর্মীরাও।
 
দুই পাইলটের অভিমত, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী পাইলট সংযোজন একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। এই উড্ডয়ন বাংলাদেশের নারীদের অনুপ্রেরণার উত্স হয়ে থাকবে বলে তারা মনে করেন। তবে পূর্ণাঙ্গ পাইলট হতে তাদের ১২০ ঘণ্টা আকাশে উড়তে হবে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৫ ঘণ্টা তারা আকাশে উড়েছেন।
 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আর্মি এভিয়েশন গ্রুপ কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিএসএম হামিদুর রহমান ও সামরিক অপারেশন পরিদফতরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাঈম আশফাক চৌধুরী। উড্ডয়ন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং দেন লেফটেনেন্ট কর্নেল হাসান মোহাম্মদ শাহরিয়র চৌধুরী।   প্রসঙ্গত, আর্মি এভিয়েশন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একমাত্র উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক সেনা পাইলটকে প্রশিক্ষিত করেছে গুরুত্বপূর্ণ এই সংস্থাটি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে পুরুষ পাইলট আছেন ৭৮ জন। ২০১৪ সালের ১৬ নভেম্বরের এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে প্রথমবারের মত প্রতিষ্ঠানটিতে দুইজন নারী পাইলটের প্রশিক্ষণ শুরু হয়।