হোসেনী দালান চত্বরে গ্রেনেড হামলায় আহত জামাল উদ্দিন (৫৫) গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গতকাল সকাল ৯টায় নি:সঙ্গ মানুষটি চলে যান না ফেরার দেশে। এ নিয়ে হোসেনী দালানে গ্রেনেড হামলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো দুই-এ। এর আগে হামলার দিন মারা যান স্কুলছাত্র সাজ্জাদ হোসেন সানজু।
ফেরি করে কসমেটিকস সামগ্রী বিক্রি করতেন জামাল উদ্দিন। তার ছোট ভাই মোহাম্মদ লিটনের স্ত্রী জান্নাতুন ফেরদৌস বলেন, অচেতন অবস্থায় ভাইজানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, সে অবস্থায়ই তিনি চলে গেলেন। বনিবনা না হওয়ায় তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছে বহু আগে, সঙ্গে নিয়ে গেছে মেয়েটিকেও। বার বার অনুরোধ করার পরও ভাইজান দ্বিতীয়বার বিয়ে করেননি।
জান্নাতুন ফেরদৌস জানান, ভাইজানের প্রিয় জায়গা ছিল ইমামবাড়া, একটু সময় পেলেই ছুটে যেতেন সেখানে। আর প্রতিবার উপস্থিত থাকতেন তাজিয়া মিছিলে। মানত করতেন আমাদের সবার জন্য।
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার সুন্দরদিয়া গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে জামাল উদ্দিন। ৫ ভাই ১ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। থাকতেন পুরান ঢাকার কাজী রিয়াজউদ্দিন রোডে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, জামাল উদ্দিনের মাথায় ক্ষত ছিল। হাসপাতালে ভর্তির পরই তিনি আইসিইউতে চিকিত্সাধীন ছিলেন।
জান্নাতুন ফেরদৌস ভাসুর জামাল উদ্দিনের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন, আমরা পাশাপাশি বাসায় ভাড়া থাকতাম। প্রায় ২৬/২৭ বছর আগে তার স্ত্রী তার দেড় বছরের মেয়েকে নিয়ে চলে যায়। প্রতিদিন সকাল ১০/১১টায় ভাইজান কসমেটিকস সামগ্রী নিয়ে বেরিয়ে যেতেন। ফিরতেন অনেক রাতে। তবে আলাদা থাকলেও স্বজনদের দেয়া থোয়ার মধ্যে তিনি কোনো কমতি রাখেননি।
তিনি বলেন, রাতে তাজিয়া মিছিলে গ্রেনেড হামলার খবর পেয়ে আমরা প্রথমে মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। কিন্তু ভাইজানের মোবাইল বন্ধ পাই। এরপর বহু খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারি ইমামবাড়ায় উপস্থিত লোকজন তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। পরে হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পাই তিনি অচেতন। আর ওই অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
গতকাল দুপুরে ময়না তদন্ত শেষে জামাল উদ্দিনের মরদেহ গ্রহণ করেন মোহাম্মদ লিটন। ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় পুরনো ঢাকার বাসায়। এ সময় সেখানে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। জামাল উদ্দিনের বৃদ্ধা মা আলোয়া বেগম ছেলের শোক সইতে না পেরে বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।
চকবাজার থানার ওসি শামীম আহমেদ জানান, পুলিশ পাহারায় জামাল উদ্দিনের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার কাজী রিয়াজ উদ্দিন রোডের বাসায়। সেখানে জানাজা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
