ঢাকায় পাতাল রেল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৫, ০০:৩৩

ঢাকায় মেট্রো রেলের পাশাপাশি পাতাল রেল নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প তৈরির কাজ শুরু করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিকল্পনা কমিশনকে নির্দেশনা দিয়েছেন। একনেক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল এ তথ্য জানিয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকায় মেট্রো রেলের পাশাপাশি পাতাল রেল নির্মাণের  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী খুব শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দিয়ে একটি সমীক্ষা চালানো হবে। সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রকল্প তৈরি করা হবে। পাতাল রেলের অর্থায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সফররত বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট কাইল পিটারস বলেছেন, পাতাল রেল প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করবে।গতকাল শেরে বাংলানগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৬৩৮৭ কোটি টাকা ব্যয় সম্বলিত ৮টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৪১৯৭ কোটি টাকা, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২৫ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ২১৬৫ কোটি টাকা।

 
সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, এ বছরের ডিসেম্বর থেকে পায়রা বন্দরে পণ্য খালাস শুরু করতে একনেকে প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পণ্য খালাসের কাজটি হবে সীমিত আকারে। পায়রা বন্দর ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ আকারে গড়ে না ওঠা পর্যন্ত বহিঃনোঙ্গরে বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য উঠা-নামার এ কাজটি সম্পন্ন হবে। এজন্য ওয়্যার হাউস, ক্রেইন, পন্টুন, পাইলট বোট, টাগ বোট, বয়া লেইয়িং ভেসেল, সার্ভে বোট, প্রশাসনিক ভবনসহ বন্দর কার্যক্রম পরিচালনা করতে ন্যূনতম অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এ ন্যূনতম অবকাঠামো কাজ সম্পন্ন করতে একনেক সভায় ‘পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো/সুবিধাদির উন্নয়ন’ শীর্ষক ১১২৮ কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০১৮ সালের জুন নাগাদ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এটি নির্মাণে ইতিমধ্যে কিছু কাজ করা হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই আরো কিছু নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে ক্ষুদ্র আকারে বন্দর কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে। এটি বাস্তবায়ন হলে এ বন্দরে ৭৫০০টি কন্টেইনারের স্থান সংকুলান হবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে ১৫০০টি কন্টেইনারের স্থান সংকুলান হয়। এর ফলে কার্গো হ্যান্ডেলিং এর খরচ বর্তমানের চেয়ে ৩ গুন কমে আসবে। মন্ত্রী আরো বলেন, ২০২৮ সাল নাগাদ এ বন্দর দিয়ে ৪ কোটি টন কয়লা খালাস করা হবে। এছাড়া এখানে ভবিষ্যতে এলএনজি টার্মিনাল হবে।
 
চট্টগ্রামে গভীর সমুদ্র বন্দর হবে কিনা সাংবাদিক সম্মেলনে এমন এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের মাতারবাড়িতে একটি গভীর সমুদ্র বন্দর হবে, সোনাদিয়ায় হবে না। এছাড়া, পায়রায় অপর একটি গভীর সমুদ্র বন্দর হবে। পটুয়াখালী জেলার রামনাবাদ চ্যানেলের পশ্চিম তীরে দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর হিসেবে পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর যাত্রা শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বন্দর উদ্বোধন করেন বলে তিনি জানান।
 

একনেকে অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্প হচ্ছে, ১৮২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম এবং খুলনায় বিএসটিআই এর আঞ্চলিক অফিস স্থাপন ও আধুনিকীকরণ প্রকল্প। ৪৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃহত্তর পাবনা ও বগুড়া জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ডাল ও তেল বীজ উত্পাদনের মাধ্যমে টেকসই পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদারকরণ প্রকল্প, ১০৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পরিকল্পনা বিভাগ/কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প এবং ৪৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকাস্থ মিরপুর পাইকপাড়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৬০৮টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প, ৪৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিপ মডেল টেস্টিং সেন্টার স্থাপন  (টোয়িং ট্যাংক) প্রকল্প। এছাড়া সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট পোগ্রাম প্রকল্পটির মূল ব্যয় ১৬৫৮ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৩৮২৬ কোটি টাকা করে ১ম সংশোধন অনুমোদন করা হয়।