সিরিয়া সঙ্কট

ভিয়েনা বৈঠকে সবাইকে নমনীয় হওয়ার আহ্বান বান কি মুনের

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৫, ১৭:৩২

সিরিয়া সঙ্কট নিয়ে ভিয়েনা আলোচনায় অংশ নেওয়া দেশগুলোকে ‘নমনীয়’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। তিনি আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রধান পাঁচটি দেশ— যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও তুরস্কের প্রতি ‘বৈশ্বিক নেতৃত্বের’ জন্য ‘জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি’ পরিত্যাগ করার কথা বলেছেন।

ভিয়েনায় শুরু হওয়া আলোচনার আগে প্রধান পাঁচ অংশগ্রহণকারী দেশের প্রতি তাদের স্বার্থের বাইরে চিন্তা করার আহ্বান জানান বান কি-মুন।

তিনি বলছেন, ‘পাঁচ পরাশক্তির কাছে আমার আহ্বান, তারা নিজেদের জাতীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নেতৃত্বসুলভ ও নমনীয় আচরণ করবেন।’

জাতিসংঘ মহাসচিব আরো বলেন, ‘যত দীর্ঘ সময় তারা নিজেদের জাতীয় স্বার্থ নিয়ে ভাববে, মানুষ তত বেশি কষ্ট ভোগ করবে। একই সঙ্গে সমগ্র বিশ্বেরও দুর্ভোগ পোহাতে হবে।’ সিরিয়া সঙ্কটের কোনো সামরিক সমাধান নেই বলেও তিনি মনে করেন। এছাড়া তিনি প্রথমবারের আলোচনায় অংশ নেয়া ইরানকেও সক্রিয় ভূমিকা রাখার কথাও বলেন।

এদিকে সিরিয়া সঙ্কট সমাধানের অংশ হিসেবে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অপসারণের বিষয়টি ইরানকে অবশ্যই মেনে নিতে হবে বলে জানিয়েছে সৌদি আরব।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দেল আল-জুবায়ের বিবিসিকে বলেন, ‘বাশারকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতেই হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। হয় তাকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিে সরে যেতে হবে, নয়তো জোর করে তাকে সরানো হবে।’

যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরব মনে করে, আসাদের কারনেই চার বছর ধরে চলা সিরিয়ার সহিংসতায় আড়াই লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং দেশটির অর্ধেকসংখ্যক জনগণ গৃহহীন হতে বাধ্য হয়েছেন। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সৌদি আরব এবং তাদের উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলো চায় না ভবিষ্যতে সিরিয়ায় আসাদের কোনো ভূমিকা থাকুক।

শুক্রবার থেকে ভিয়েনায় শুরু হওয়া  আলোচনায় অংশ নেবে বারোটিরও বেশি দেশ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, জার্মানি, আর ফ্রান্সের মত বিশ্বশক্তি যেমন রয়েছে, তেমনি থাকছে তুরস্ক, সৌদি আরব আর সিরিয়ার মতো বিবদমান বিভিন্ন পক্ষও।

সিরিয়া সঙ্কট নিয়ে আলোচনায় এই প্রথমবারের মতো অংশ নিতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মিত্রদেশ ইরান।

এ ব্যাপারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ জানান, বিশ্বের অন্য শক্তিধর দেশগুলো উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, সিরিয়া সংঘাতের ‘কার্যকর সমাধানে’ তেহরানের অংশগ্রহণের বিকল্প নেই।

এদিকে, আলোচনা শুরুর আগে বিভিন্ন দেশ এবং পক্ষ পরস্পরের সঙ্গে শেষ মূহুর্তের আলোচনা করে। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফ।

উল্লেখ্য, সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধে আসাদ সরকারকে সমর্থন জানিয়ে আসছে ইরান, রাশিয়া ও লেবাননের হিজবুল্লাহ। অন্যদিকে তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সমর্থন জানাচ্ছে আসাদবিরোধীদের।

সিরিয়ায় ২০১১ সালের মার্চে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তীতে তা রূপ নেয় গৃহযুদ্ধে। প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা সংঘাতে এ পর্যন্ত আড়াই লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গৃহহারা হয়েছেন এক কোটি ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ অন্য দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের সুযোগে দেশটিতে শক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলেছে আইএস।