‘মাতারবাড়িতেই হবে গভীর সমুদ্র বন্দর’

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৫, ০১:৪৪
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের উদ্যোগে গতকাল শনিবার ‘সমস্যা ও সম্ভাবনাময় চট্টগ্রাম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের সোনাদিয়া দ্বীপের মাতারবাড়িতেই গভীর সমুদ্র বন্দর হচ্ছে। কারণ ঐ জায়গার মতো গভীরতা আর কোথাও নেই। চট্টগ্রাম বন্দরকে আরো বেগবান ও কার্যকর করতে বে-টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রামের সমুদ্র তীরে ১২শ একর ভূমিতে সমুদ্রমুখী একটি স্মার্ট সিটি গড়ে তোলা হচ্ছে। তবে চট্টগ্রামের সকল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সমন্বিত উদ্যোগ গৃহীত না হলে উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছবে না। জাতীয় স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এক থাকতে হবে। দেশে আমদানি-রপ্তানির প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির সাথে তাল রাখতে একাধিক বন্দর নির্মিত হওয়াও প্রয়োজন। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
 
নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি কলিম সরোয়ার। এতে আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্য রাখেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ সালাম, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার বাবুল, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল জলিল মণ্ডল, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, বিটিসিএল-চট্টগ্রাম অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক তমাল নন্দী, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক ধুর্জটি প্রসাদ দে, বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি মঈনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু, সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দকে সম্মাননা তুলে দেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল মনসুর। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সালাহউদ্দিন মো. রেজা। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী।
 
অনুষ্ঠানে গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আরো বলেন, বর্তমান সরকার শুধু চট্টগ্রাম নয়, বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছে। মাতারবাড়ী ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ কেন্দ্রে ২০২০ সালে উত্পাদন শুরু হলে এবং মাতারবাড়ীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে চট্টগ্রামের গ্যাস ও বিদ্যুত্ সংকট আর থাকবে না। তিনি চট্টগ্রাম মহানগরীতে ফ্লাইওভার এবং মিরসরাইসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশনায় কাজ চলছে। একটি চীনা কোম্পানি মিরসরাইতে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুত্ কেন্দ্র করতে যাচ্ছে।
 
ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের সাথে দেশের সব অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে চট্টগ্রামের ৬০ শতাংশ সমস্যার সমাধান এমনিতেই হয়ে যাবে। আর এটা হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিজেরাই এগিয়ে আসবেন।
 
মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, চট্টগ্রামে গত ৩৪ বছরে কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান হয় নাই। এটাই প্রধান সমস্যা। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে টানেল হতে যাচ্ছে, এটি বিরাট অগ্রগতি।
 
বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে জাতীয় বাজেটে একটি সুনির্দিষ্ট খাত থাকতে হবে। অন্যথায় উন্নয়ন হবে না।
 

মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেন, জাতি, ধর্ম ও আঞ্চলিকতার ঊর্ধ্বে উঠে চট্টগ্রাম উন্নয়নে কাজ করতে হবে। বর্জ্য অপসারণ, নগরীর উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।