সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় যুগ্ম সচিব মো. মাশুক মিয়ার কক্ষের কিছু আসবাবপত্র তছনছ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে উপমন্ত্রী এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, উপমন্ত্রী হিসাবে একজন যুগ্ম সচিবের কক্ষে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। প্রয়োজন হলে তিনিই আমার (উপমন্ত্রীর) কক্ষে আসবেন।
পক্ষান্তরে মন্ত্রণালয়ের সচিব নূর মোহাম্মদ ইত্তেফাককে বলেছেন, ঘটনাটি দু:খজনক। একজন পদস্থ কর্মকর্তার পক্ষে অপমানজনক। এটি অনভিপ্রেত। এ অবস্থায় কারো পক্ষে কাজ করা কঠিন।
জানা যায়, যুব দিবসের কর্মসূচিতে ব্যানারে উপমন্ত্রীর নাম না থাকাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। গতকাল রবিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত যুব দিবেসর অনুষ্ঠানে যে ব্যাক ড্রপ ( পিছনের ব্যানার) দেয়া হয় তাতে প্রধান অতিথি হিসাবে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী বীরেন সিকদারের নাম লেখা ছিল। যদিও আমন্ত্রণপত্রে বিশেষ অতিথির জায়গায় উপমন্ত্রীর নাম উলেখ আছে।
সূত্র জানায়, অনুষ্ঠানে গিয়েই ক্ষোভে ফেঁটে পড়েন উপমন্ত্রী। তিনি দর্শকসারিতে গিয়ে এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে থাকেন। সঙ্গে তার অনুসারীরাও যোগ দেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে বিশৃংখল পরিবেশ তৈরি হয়। এ অবস্থায় সচিব নূর মোহাম্মদ উপমন্ত্রীকে একাধিকবার বুঝিয়ে মঞ্চে আনতে সক্ষম হন। কিন্তু তিনি বক্তব্য রেখেই আগেভাগে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে মন্ত্রণালয়ে চলে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনামতে, উপমন্ত্রী জয় যুগ্ম সচিব (যিনি যুব দিবসের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন) মাশুক মিয়ার কক্ষে প্রবেশ করেন এবং তাকে না পেয়ে কম্পিউটারের মনিটরসহ কিছু আসবাবপত্র ছুড়ে ফেলে দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফ খান জয় বলেন, দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে তিনি যন্ত্রণা ভোগ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকলেও তাকে উপেক্ষা করে প্রায় ৬০ ভাগ নথি নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। আবার নিষ্পত্তিকৃত ফিরতি নথি তার কাছে দেয়াই হয় না। ২০০৯ সালের ২৬ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্কালীন পরিচালক ( এখন মহাপরিচালক) কবীর বিন আনোয়ার স্বাক্ষরিত এক পত্রে বলা হয়েছিল প্রতিটি নথি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর স্বাক্ষরসহ উপস্থাপন করতে হবে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের ২৫ সার্চ জারি করা পত্রে বলা হয় নির্দেশনাটি উপমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। উপমন্ত্রী বলেন এ নির্দেশনা একেবারেই মানা হয় না।
এসব বিষয়ে সচিব জানান, তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে একাধিকবার প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নিজেদের মধ্যেকার ভুল বোঝাবুঝি পরিহার করে মন্ত্রণালয়ের কাজকে এগিয়ে নেয়ার সুযোগ তৈরির অনুরোধ করেছেন। সচিবের মতে, গেল অর্থ বছরের থোক বরাদ্দের ৫০ কোটি টাকা খরচই করা যায়নি-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর বিরোধের কারনে। এবার অবশ্য সে বিষয়টি নিরশন করে অর্থবিভাগে অর্থ ছাড় করার প্রস্তাব পাঠানো সম্ভব হয়েছে।
