শুদ্ধস্বরের প্রকাশক আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুল ও লেখক রণদীপম বসুর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও ব্লগার তারেক রহিমের অবস্থা এখনও ‘ভালো নয়’ বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকরা। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিজানুর রহমান গতকাল রবিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘টুটুল ও রণদীপম ভালো আছেন। তবে তারেকের বাঁ হাতের অবস্থা ভাল নয়। কাল অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। তাদের আজ কেবিনে দেয়া হয়েছে।’ এদিকে তারেকের চিকিত্সায় ৯ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
শনিবার ঢাকার লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে ঢুকে টুটুলকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে তিন হামলাকারী। এ সময় টুটুলের সঙ্গে থাকা তারেক ও রণদীপমকেও কোপানো হয়। তারেকের কোমরে গুলিও করা হয়। ওই ঘটনার সময় ভেতরে আটকা পড়া এক তরুণ বলেন, হামলাকারীরা অফিসে ঢুকেই বলেছিল তারা টুটুলকে মারতে এসেছে।
গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক এহসান মাহমুদকে প্রধান করে এ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। তারেক রহিমসহ হামলায় আহত তিনজনই ঢামেকে চিকিত্সাধীন। ঢামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিজানুর রহমান জানান, নিউরোসার্জারি বিভাগের ?অধ্যাপক এহসান মাহমুদকে প্রধান করে গঠিত এ মেডিক্যাল বোর্ডে অর্থোপেডিকস, নিউরোসার্জারি, মেডিসিন ও সার্জারিসহ বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের রাখা হয়েছে। মেডিক্যাল বোর্ড ইতোমধ্যে তারেক রহিমের চিকিত্সা শুরু করে দিয়েছে বলেও জানান মিজানুর রহমান।
মিজানুর রহমান আরো জানান, সকালে তারেক রহিমের প্রাথমিক অপারেশন হয়েছে। গুলি এখনও তার পেটেই আছে এবং তিনি পোস্ট-?অপারেটিভে রয়েছেন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তারেকের বাম হাতে এতো গভীর ক্ষত হয়েছে যে, চিকিত্সকরা এখন তার বাম হাতটি বাঁচানোর উপায় খুঁজছেন। তারেক রহিম এখনও আশঙ্কামুক্ত নন বলেও জানান ঢামেক পরিচালক।