উগ্রবাদীদের কৌশলে পরাস্ত হচ্ছে পুলিশ

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০১৫, ০১:২১

‘ধর্মান্ধ উগ্রবাদী গোষ্ঠীর কৌশলের কাছে পরাস্ত হচ্ছে পুলিশ। ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে একের পর এক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করায় পুলিশ তাদের পরিকল্পনা ধরতে পারছে না। পাশাপাশি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কও ঠিকমতো কাজ করছে না। ফলে একের পর এক ব্লগার ও প্রকাশক খুন হলেও মাস্টারমাইন্ডদের ধরা যাচ্ছে না। এই মাস্টারমাইন্ডদের ধরতে না পারলে এ ধরনের ঘটনা আরো ঘটবে।’

 
ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে এমন আশঙ্কার কথা বলেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশীদ। পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নুরুল হুদাও একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক বাড়াতেই হবে।’
 
আব্দুর রশীদ বলেন, ‘খুনিদের ধরতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা নেই এমনটি আমি মনে করি না। তবে আগে থেকে এ ধরনের তথ্য পাওয়া বেশ দুষ্কর। কারণ এরা ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে কাজ করে। এখানে খুব অল্প লোকের অংশগ্রহণ থাকে। বড় মুভমেন্টগুলোতে বেশি লোকের অংশগ্রহণ থাকায় গোয়েন্দারা জানতে পারে। এখানে ছোট মুভমেন্ট হওয়ার কারণে এদের ধরা যাচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি পুলিশনির্ভর। এটা হওয়া উচিত নয়। আমাদের কমিউনিটিকে সক্রিয় হতে হবে। যেমন আজিজ সুপারের নিরাপত্তা রক্ষীদের এই ধরনের অপরাধী ধরার কোনো প্রশিক্ষণই নেই। ফলে তাদের সামনে দিয়ে চলে গেলেও তারা ধরতে পারছে না। আবার আমাদের অনেকের সামনে ঘটনা ঘটলেও আমরা নির্লিপ্ত থাকছি। ফলে খুনিরা তাদের কাজ শেষ করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাচ্ছে। এখানে আমাদেরও মনস্তাত্ত্বিকভাবে শক্ত হতে হবে।’
 
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমাদের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ঠিকমতো কাজ করছে না। এই নেটওয়ার্ক আরো বাড়াতে হবে। যাদের জীবনের ঝুঁকি আছে তাদের সার্বক্ষণিক ‘শ্যাডো’ নিরাপত্তার মধ্যে রাখা উচিত ছিল। আগে একবার টুটুলের (আহত প্রকাশক) নিরাপত্তা দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। এখানে বুঝতে হবে, এই উগ্রপন্থিরা একবার টার্গেট করলে কখনও পিছু হটে না। আমাদের পুলিশ তো বেশ কয়েকটি ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে। ফলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।’
 

নিরাপত্তা বিশ্লেষক আব্দুর রশীদ আরো বলেন, ‘পাবনায় যাজককে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় পুলিশ কিন্তু অপরাধীদের ধরে ফেলেছে। পাশাপাশি প্রকৌশলী খিজির খান, চট্টগ্রামে ল্যাংটা পীর, ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দায় হত্যাকারীদের তো পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তা হলে বুঝতে হবে তাদের সক্ষমতা আছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে মাস্টারমাইন্ডদের ধরা যাচ্ছে না। এখানে তদন্ত আরো জোরদার করতে হবে। হত্যাকারীদের কৌশল পুলিশকে বুঝতে হবে।’ তিনি বলেন, এই উগ্রপন্থিদের পেছনে বড় মদদ রয়েছে। তাদের না ধরা পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না। এ ধরনের ঘটনা আরো ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করেন তিনি।