জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে প্রক্সি দিতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বরত শিক্ষকরা। পরে তাকে উদ্ধার করতে এসে আটক হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক সহ-সভাপতিও।
সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্তিক বিজ্ঞান বিভাগের ২০৩ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। আটক ওয়ালিউর হোসেন জনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় ছানাউল হোসেন নামে এক ভর্তিচ্ছুর প্রক্সি দিতে গিয়ে আটক হন জনি।
জানা যায়, সোমবার নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের পরীক্ষা চলাকালে চতুর্থ শিফটে ভূতাত্তিক বিজ্ঞান বিভাগের ২০৩ নম্বর কক্ষে আটক হন জনি। পরে তাকে উদ্ধার করতে জোরপূর্বক পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেন জাবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন। দায়িত্বরত শিক্ষকদের সাথে ধাক্কাধাক্কি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনি রহমানকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন আনোয়ার হোসেন। এ সময় দায়িত্বরত শিক্ষক অধ্যাপক শাখাওয়াত হোসেন, সুদীপ পাল ও ভর্তি পরীক্ষা আঞ্চলিক সমন্বয়ক অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন তাদেরকে আটক করে প্রক্টরিয়াল বডির কাছে হস্তান্তর করেন। প্রক্টর অফিসে নিয়ে গেলে টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে সহকারী প্রক্টর শেখ আদনান ফাহাদকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন আনোয়ার। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে পুনারায় আটক করেন বলে জানিয়েছেন সহকারী প্রক্টর শেখ আদনান ফাহাদ।
আটক ঢাবি ছাত্র জনি উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন, সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুর রহমান ইমন ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে জনিকে প্রক্সি পরীক্ষা দেয়ার প্রস্তাব দেন। ইমনের দেয়া মোবাইল ফোন নম্বরের মাধ্যমে জাবিতে এসে আনোয়ার হোসেনের সাথে দেখা করে পরীক্ষার হলে ঢুকেন জনি। কোনো সমস্যায় পড়লে বিষয়টি দেখবেন বলে জনিকে আশ্বাস দেন আনোয়ার।
এই প্রতিবেদন লেখার সময় আটক দু’জন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে আটক আছেন। তাদেরকে পুলিশে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা।
