'সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দীপনের তিন ঘাতক শনাক্ত'

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৫, ১১:৫৭

ব্লগার অভিজিতের বইয়ের প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনের তিন হত্যাকারীকে শনাক্ত করেছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। তারা আজ বা কালকের মধ্যেই এই তিনজনের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা বিভাগে জমা দেবে বলে দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটের দুইটি সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ থেকে তিন ঘাতকের ছবি শনাক্ত করা হয়েছে।
 
ওই কর্মকর্তা বলেন, ওই দিন তাদের আজিজ সুপার মার্কেটে প্রবেশ করা ও বাইরে পালিয়ে (তাড়াহুড়ো করে) যাওয়ার ছবি দেখে সন্দেহ করা হয়। এরপর তাদের আরো বেশ কিছু ছবি পর্যবেক্ষণ করে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন, এই তিনজনই সেদিনের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, ওই তিন জনের কেউই পাজামা-পাঞ্জাবি পরিহিত ছিল না। তাদের কারো মাথায় টুপিও ছিল না। তারা স্বাভাবিক পোশাক পরে কিলিং মিশনে অংশ নিয়েছিল।
 
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ইত্তেফাককে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন দিক থেকে এ ঘটনা তদন্ত করছে। ঘটনা তদন্তে সবকটি গোয়েন্দা বিভাগকে নিয়োজিত করা হয়েছে। কোনো একটি গোয়েন্দা বিভাগ এ ঘটনায় তিন ঘাতককে শনাক্ত করলেও করতে পারে, তবে এ ব্যাপারে আমাকে এখনো জানানো হয়নি।
 
শুদ্ধস্বর প্রকাশনায় হামলা ও জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক দীপন খুনের ঘটনায় দায়ের করা দুইটি মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মাদ্রাসাভিত্তিক উগ্র জিহাদি গ্রুপ যারা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট-তাদের মধ্যে থেকে এই হামলা ও খুনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
 
দীপনের হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে আজিজ সুপার মার্কেটের সিসি ক্যামেরায় ধারণ হওয়া বিভিন্ন ফুটেজ বিশ্লেষণ করছেন গোয়েন্দারা। তবে সরাসরি খুনের ঘটনায় কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। যে ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে তাতে ছবি স্পষ্ট দেখা গেছে।
 
আজিজ সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি ইফতেখার হোসেন বলেন, ‘আজিজ সুপার মার্কেটের নিচতলার বিভিন্ন স্থানে মোট আটটি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো ছিল। কেউ যদি নিচতলা দিয়ে ভবনে প্রবেশ করেন, তাহলে অবশ্যই তার ছবি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়বে’।
 
অন্যদিকে, একটি গোয়েন্দা সংস্থার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে নানা প্রশ্ন তোলা হয়েছে যার মধ্যে আছে, জিহাদি গুপ্ত ঘাতক দলের সদস্য নিয়ে। তারা সংখ্যায় কত ? তাদের প্রকৃত পরিচয় ও পরিচালনায় আছে কারা ? হত্যাকাণ্ডের পর তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে কিভাবে ? হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে তারা অবস্থান করে কোথায় ? তাদের চিহ্নিত করা যাচ্ছে না কেন ? দু’একজন ধরা পড়লেও তাদের সহযোগীদের শনাক্ত করে ধরতে বাধা কোথায় ? তাদেরকে অর্থায়নই করছে কারা ? এসব প্রশ্নের সঠিক সমাধান করতে না পারায় ঘটনার তদন্তের গভীরে যেতে পারছেন না তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
 
গোয়েন্দা সংস্থার যে পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রগতিশীল লেখক ও ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু’র দুই খুনি জিকরুল্লাহ ও আরিফুলকে খুনে ব্যবহূত চাপাতিসহ হাতে নাতে ধরা পড়ে ঘটনাস্থলেই। তাদের একজন চট্টগ্রামের হাটহাজারীর একটি মাদ্রাসা ও অপর একজন ঢাকার মিরপুরের মাদ্রাসার ছাত্র বলে পরিচয় দেয়। তাদের কাছে নানা প্রশ্নে বিস্তারিত ও ব্যাপক তদন্তের গভীরে যেতে পারেনি তদন্তকারীরা।
 
গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেন, রাজধানীসহ সারাদেশে গোপনে বিচরণ করছে জিহাদি গুপ্ত ঘাতকরা। মুক্তমনা প্রগতিশীল প্রকাশক, লেখক, ব্লগারদের টার্গেট করে হত্যা করে যাচ্ছে তারা। তাদের সংখ্যা কত সেই পরিসংখ্যান, সাংগঠনিক কাঠামোর কোন ধারণাই আইন-শৃংখলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে স্পষ্ট নয়।
 

তদন্ত প্রতিবেদন ৭ ডিসেম্বর
 
প্রকাশক দীপন হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৭ ডিসেম্বর তারিখ ঠিক করে দিয়েছে আদালত। মামলা দুটির এজাহার গ্রহণ করে মঙ্গলবার ঢাকার ?দুটি আদালত এই তারিখ ঠিক করে দেয় বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দীপন হত্যা মামলার এজাহার গ্রহণ করে মহানগর হাকিম মো. ইউনুস খান ৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ঠিক করে দেন বলে আদালত পুলিশের এসআই কুতুবুল আলম জানিয়েছেন। শুদ্ধস্বরের প্রকাশক টুটুলের মামলাটি ওঠে অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম লুত্ফর রহমান শিশিরের আদালতে। তিনি ২ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেন বলে আদালত পুলিশের এসআই মাহমুদুর রহমান জানিয়েছেন।