ঢাকার আশুলিয়ায় খুন হওয়া পুলিশ কনস্টেবল মুকুল হোসাইনের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। বুধবার দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের রহবল পুর্ব পাড়া গ্রামে মুকুল হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শত-শত নারী পুরুরে ভীড়। পুত্র শোকে বাকরুদ্ধ মা মোর্শেদা বেগমকে শান্তনা দিচ্ছেন প্রতিবেশীরা।
সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান হারিয়ে বাবা শহিদুল ইসলামও পাগল প্রায়। তার অপর তিন সন্তানের এখন কি হবে? কে নিবে লেখাপড়ার খরচের দায়িত্ব? এই কথা বলে বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন শহিদুল ইসলাম।
বুধবার সকালেই মুকুলের তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পরলে শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো গ্রাম। শতশত মানুষ তার গ্রামের বাড়িতে এসে ভীড় জমায়। বৃদ্ধ পিতা মাতা ছোট ভাই, বোন আত্মীয় স্বজনদের আহাজারীতে ভারী হয়ে যায় পরিবেশ। ছেলে হারানোর শোক কারোই সান্তনায় কমছে না মায়ের কান্না।
নিহত পুলিশ কনস্টেবল মুকুল হোসাইনের (২৫) বাড়িতে গিয়ে জানাযায়, দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে বড় মুকুল হোসাইন। সাড়ে ৫ বছর আগে তিনি পুলিশের চাকুরিতে যোগ দেন। ছোট ভাই জিসান হোসাইন দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্র। ছোট দুই বোন সম্পা ৯ম শ্রেনীতে এবং মিস্টি ৫ম শ্রেনীতে লেখাপড়া করে। বাবা শহিদুল ইসলাম নিজের সাড়ে তিন বিঘা জমিতে কৃষি কাজ করে সংসার চালাতেন। বড় ছেলের চাকুরির কয়েক মাস থেকে চাষাবাদের পুরো জমি টুকো বন্ধকী রেখেছেন অন্যের কাছে। ফলে অন্যের জমিতেও কাজ করতে পারেনা শহিদুল ইসলাম। ছেলের পাঠানো টাকাতেই চলতো তার তিন ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া এবং সংসারের খরচ। বড় ছেলে মুকুল হোসাইন চাকুরি পাওয়ার পর বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু সংসার টেকেনি তার। বছর দেড়েক আগে বিচ্ছেদ হওয়ায় স্ত্রী চলে গেছে বাবার বাড়িতে।
শহিদুল ইসলাম জানান, সর্বশেষ গত মাসের ২১ অক্টোবর তার ছেলে ছুটি শেষে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে যায়। যাওয়ার আগে বাবা-মা বিয়ের আলোচনা করলে ছেলে জানানর আগে বন্ধকী জমি ফিরে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বাবা-মার সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে আনার জন্য মুকুল হোসেন জমি গুলো ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে জানান তার প্রতিবেশীরা।
বাবা-মা যখন মুকুল হোসাইনকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখছিলেন, ঠিক সেই সময় বুধবার সকালে বাবা শহিদুল ইসলামের কাছে ফোন আসে তার ছেলে আর নেই। প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি তিনি। পরে গ্রামের লোকজন টেলিভিশনের খবর দেখে শহিদুল ইসলামকে জানায়, ঢাকায় নিহত পুলিশ কনস্টেবল তাদেরই সন্তান মুকুল হোসাইন ।
নিহত মুকুলের দাদা ওসমান আলী বলেন, তার নাতীর এই অকাল মৃত্যুতে পরিবারটিতে নেমে এসেছে অন্ধকার। সংসারের খরচ এবং ছোট ভাই বোনদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, এই অসহায় পরিবারের পাশে যেন সরকার দাড়ায়। পাশাপাশি মুকুলের ছোট ভাই জিসান বাবুকে সৈনিকের একটা চাকরির ব্যবস্থা করা হয়। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকাল সাড়ে ৪টা) গ্রামের বাড়ি রহবলে মানুষ নিহতের পরিবার আত্মীয় স্বজন লাশের অপেক্ষা করছিলো।
উল্লেখ্য, বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আশুলিয়ার বারইপাড়া নন্দনপার্ক এলাকার পুলিশ চেক পোস্টের সামনে দুর্বৃত্তরা এই পুলিশ সদশ্যকে রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপাতে থাকে। পরে ফাঁকা গুলি ছুড়ে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এরপর গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মারা যায়।
