চট্টগ্রামে ভয়াবহ গ্যাস সঙ্কট

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৫, ২৩:২৯

বন্দরনগরী আবার গ্যাস সঙ্কটের কবলে পড়েছে। ন্যাশনাল গ্রীড থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত এক সপ্তাহ যাবত্ চরম গ্যাস সঙ্কট বিরাজ করছে। সরবরাহ স্বাভাবিকের চেয়ে হঠাত্ করে ৬০/৭০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যাওয়ায় এই সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। গ্যাস নির্ভর শিল্প-কারখানা, বিদ্যুত্ কেন্দ্র, সার কারখানা ও আবাসিক গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস বিপর্যয় ঘটেছে। শিল্প-কারখানায় উত্পাদন কমে গেছে। বাসা-বাড়িতে রান্নার চুলা জ্বলছে মিটমিট করে।

 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, আশুগঞ্জের আগে প্রধান লাইন থেকে বিভিন্ন স্থানে গ্যাস নিয়ে নেয়ায় চট্টগ্রামে সরবরাহ লাইনের গ্যাসের প্রেসার কমে গেছে। এর ফলে দৈনিক ২৬০/২৭০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে সরবরাহ কমে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। চট্টগ্রামে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
 
নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে গ্যাস সঙ্কট নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ আসছে কর্ণফুলী গ্যাস কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে। প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ একেবারেই কম থাকে। বিশেষ করে গ্যাস নির্ভর রি-রোলিং মিল, গার্মেন্টস, সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, লবণ মিল, সার কারখানায়, উত্পাদন হ্রাস পেয়েছে।বহুজাতিক কোম্পানি কাফকো’র চিফ অপারেশন অফিসার শেখ শফি আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমাদের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট। গত এক সপ্তাহ ধরে ৪০ থেকে ৪২ মিলিয়নের বেশি গ্যাস পাচ্ছি না। ফলে সার উত্পাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।’ এদিকে চট্টগ্রামে গ্যাস নির্ভর বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলোতে উত্পাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। শিকলবাহা ও রাউজানের ৪টি ইউনিটের মধ্যে গ্যাস সঙ্কটে ৩টি ইউনিটে বিদ্যুত্ উত্পাদন বন্ধ রয়েছে বলে পিডিবি কর্মকর্তারা জানান। নতুন সংযোগ দেয়া অব্যাহত থাকায় চট্টগ্রামে গ্যাসের চাহিদা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
 
গতকাল চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম চট্টগ্রামে চলমান গ্যাস সঙ্কট নিরসনের জন্য জ্বালানি উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী ও পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যানকে জরুরি বার্তা পাঠিয়েছেন।
 

এতে চেম্বার সভাপতি বলেন, চট্টগ্রামে বছরের পর বছর চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক গ্যাস সরবরাহের কারণে শিল্পায়ন বন্ধ রয়েছে। চলমান শিল্প কারখানাগুলোর অবস্থাও নাজুক।