মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় এক সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছে উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জন। সেনা সদস্য হত্যার ঘটনায় পুলিশ ৫ জনকে আটক করেছে। গত শুক্রবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার এক নং মহেড়া ইউনিয়নের দেওভোগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত সেনা সদস্যের নাম মো. আজিজুল মিয়া(৩০), পিতার নাম- মো. আব্দুর রউফ মিয়া।
জানা গেছে, আজিজুল হক বগুড়া সেনানিবাসে আর্টিলারি কোরে সেনা সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন ৫ দিনের ছুটি নিয়ে শুক্রবার তিনি গ্রামের বাড়িতে আসেন। গ্রামে এসে জানতে পারেন তার প্রতিবেশী আবু বকর মোল্লার বখাটে ছেলে মাদক সেবী কামরুল ও কয়েকজন বখাটে এলাকায় মাদক সেবন ও বিক্রি করে আসছে। এ নিয়ে গ্রামের কেউ প্রতিবাদ করলেই ঐ মাদক কারবারিরা তাদের নানাভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায় বলে অভিযোগ রয়েছে। গত বুধবার বখাটে কামরুল ও তার সহযোগীদের সঙ্গে আজিজুলের ছোট ভাই রাসেলের বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে শুক্রবার আজিজুল ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন। এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে ৬-৭ জন মাদক বিক্রেতা ও তাদের সহযোগীরা আজিজুল ও তার ছোট ভাই রাসেলকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। এই ঘটনা জানাজানি হলে গ্রামের ইউপি মেম্বারের সহযোগিতায় মাতব্বরগণ শুক্রবার বিকেলে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে ঘটনা মীমাংসার জন্য দিন ধার্য করেন। সেনা সদস্য আজিজুলের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার ও ছোট ভাই রাসেল অভিযোগ করেন, শুক্রবার বিকেলে গ্রাম্য সালিশের কথা থাকলেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রশিদ মিয়ার ছেলে বেল্লাল এবং আবু বকরের ছেলে কামরুলের নেতৃত্বে দেওভোগ গ্রামের ফিরোজ মোল্লার বখাটে ছেলে খায়রুল মোল্লা, আমজাদ মোল্লার ছেলে আকরাম মোল্লা, রাজ্জাক মোল্লার ছেলে মমিন মোল্লা ও রফিক মিয়ার ছেলে লিটন ওরফে মিন্টুসহ ৭-৮ জন মিলে আজিজুলের উপর হামলা চালায় ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে আজিজুলের বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মির্জাপুর কুমদিনী হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিত্সকদের পরামর্শে তাকে ঢাকার সিএমএইচ-এ নেওয়ার পথে চন্দ্রা এলাকায় তিনি মারা যান। পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বেল্লাল, খায়রুল, আকরাম, মমিন ও মিন্টুকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার মূল নায়ক কামরুলকে পুলিশ এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি। আজিজুলের পরিবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।
মির্জাপুর থানার ওসি এ কে এম মিজানুল হক মিজান ও ওসি (তদন্ত) মো. মোশারফ হোসেন বলেন, সেনা সদস্য আজিজুলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
