মসলা জাতীয় ফসলের গবেষণায় ৯৪ কোটি টাকার প্রকল্প

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৯, ২২:১৬

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

দেশে প্রায় ৩৩ লাখ টন মসলার চাহিদা থাকলেও উত্পাদন হচ্ছে প্রায় ২৭ লাখ টন। এর মধ্যে সংরক্ষণজনিত কারণে ছয় লাখ টন নষ্ট হচ্ছে। যার কারণে দেশে মসলার ঘাটতি রয়েছে ১২ লাখ টন। এই ঘাটতি মোকাবেলায় সরকার মসলা জাতীয় ফসলের গবেষণা জোরদার করার জন্য ৯৪ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প আগামী ২০২২ সালে শেষ হবে।

গতকাল শনিবার সকালে বগুড়ার শিবগঞ্জে অবস্থিত মসলা গবেষণা কেন্দ্রের হলরুমে বাংলাদেশে মসলা জাতীয় ফসলের গবেষণা জোরদারকরণের প্রকল্পের ‘ইনসেপসন ওয়ার্কশপে’ এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ওয়ার্কশপে মসলার এই ঘাটতি পূরণে দক্ষ জনবল, নতুন নতুন জাত ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে উত্পাদন বাড়ানোর গুরুত্বারোপ করা হয়। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি বলে মনে করা হয়। এসব মসলা ফসলের ন্যায্য দাম কৃষকেরা যাতে পায় সে বিষয়টিও আমলে নিতে হবে। ওয়ার্কশপে জানানো হয় ২০১৫-১৬ সালের তুলনায় ২০২০-২১ সালে মসলার চাহিদা সাড়ে ১১ লাখ টন বৃদ্ধি পাবে। যার বাজার মূল্যে দাঁড়াবে চার হাজার ২২৫ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ সালে ২৬৫০-৩৩৫০ কোটি টাকার পেঁয়াজ ও অন্যান্য মসলা আমদানি করা হয়। যার ৬০ ভাগ পেঁয়াজ ও ৪০ ভাগ অন্যান্য মসলা। অন্যদিকে পান ও কাঁচামরিচসহ ১২শ’ কোটি টাকার প্যাকেটজাত গুঁড়া মসলা রপ্তানি করা হয়। ওয়ার্কশপে জানানো হয়, দেশে ৩৫টি মসলা ফসলের চাষ হয় এবং ৪২টি মসলা জাতীয় ফসলের উপর গবেষণা কার্যক্রম চলছে। এ পর্যন্ত মসলা গবেষণা কেন্দ্র ২০টি মসলা ফসলের ৩৮টি উন্নত জাত ও ৮৫টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এর ফলে মসলার উত্পাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড.আবুল কালাম আযাদের সভাপতিত্বে ওয়ার্কশপে প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুন্ড্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. একেএম আজাদ-উদ-দ্দৌলা প্রধান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুর রহিম, সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মসলা গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ শফিকুল ইসলাম।