আরেকটি হোয়াইট ওয়াশের অপেক্ষা

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৫, ১২:২৭

সিরিজ নিশ্চিত হয়ে গেছে গত সোমবারই। আজ বুধবার তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের লক্ষ্য জিম্বাবুয়েকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইটওয়াশ করা। মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুপুর একটায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচে যদি শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত জয় আসে, তাহলে সেটা হবে বাংলাদেশের জন্য একাদশ হোয়াইটওয়াশ। সব মিলে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে তৃতীয়।

সোমবার ৫৮ রানের জয় পাওয়া একাদশে আজ আসতে পারে একটি পরিবর্তন। অভিষেক হতে পারে তরুণ পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বির। সেক্ষেত্রে বিশ্রাম পেতে পারেন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এখনো শতভাগ ফিটনেস ফিরে না পাওয়া মাশরাফি বিন মুর্তজা। তাছাড়া দ্বিতীয় ম্যাচের পর পায়ে সামান্য ব্যথার কথা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। নিয়মিত অধিনায়ক না থাকলে, নেতৃত্বের দায়িত্ব উঠতে যাচ্ছে তামিম ইকবালের কাঁধে।

গত বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশের পর থেকেই যেন নতুন যুগের সূচনা হয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে। সোমবার দ্বিতীয় ম্যাচে সেই দলকে হারিয়েই পূরণ হয় টানা পাঁচ ওয়ানডে সিরিজ জয়ের বৃত্তপূরণ। মাঝে বিশ্বকাপ সাফল্যের সঙ্গে আছে তিন পরাশক্তি পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়। সবগুলো সিরিজই অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের মাটিতে।

এবার স্বাগতিকদের সামনে সুযোগ ৫০ ওভারের ফরম্যাটে সাফল্যে পরিপূর্ণ এক বছরের সফল উপসংহার রচনার। কারণ, বর্তমান সূচি অনুযায়ী আজকের ম্যাচের পর চলতি বছরে আর কোন ওয়ানডে খেলার কথা না বাংলাদেশের।

প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ইতিমধ্যেই সিরিজ নিশ্চিত করে ফেললেও মাঠে টাইগারদের পারফরম্যান্স মন ভরাতে পারেনি সমর্থকদের। ভারত-পাকিস্তানের মতো দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দোর্দণ্ড প্রতাপে হারাবার পর জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে এমন ম্যাড়ম্যাড়ে জয়ে মন ভরবেই বা কিভাবে!

প্রথম ম্যাচে ১৪৫ রানের বড় জয় পেলেও মুশফিকুর রহিম-সাব্বির রুম্মন বাদে ব্যাটিংয়ে হতাশ করেছেন বাকি সবাই। দ্বিতীয় ম্যাচে তো ইমরুল কায়েস ছাড়া কেউ অর্ধশতকই ছুঁতে পারেননি।

তবে জয়ের ধরনের চেয়ে ফলটাকেই মুখ্য বলে বিবেচনা করতে চাইলেন দলের খেলোয়াড়রা। দ্বিতীয় ম্যাচের আগে তামিম ইকবাল বলেছিলেন জিততে হলে নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করতে হবে। কাল প্রায় একই কথা বললেন তরুণ পেস সেনসেশন মুস্তাফিজুর রহমান। লাজুক হাসি আর দুষ্টামির মাঝে বেশ সিরিয়াসভাবে বোঝাতে চাইলেন জিম্বাবুয়েকে মোটেই হালকাভাবে নিচ্ছে না বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে উইকেটশূন্য থাকার পর দ্বিতীয় ম্যাচে তিন উইকেট পাওয়া মুস্তাফিজ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট যারা খেলতে আসে তারা সবাই ভাল খেলোয়াড়। আমরা হোয়াইটওয়াশ কিংবা রেকর্ডের দিকে না তাকিয়ে কেবল জয়ের কথাই ভাবছি।’

২০০৬-০৭ মৌসুমে দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। ৫-০ ব্যবধানে জেতে স্বাগতিকরা। আইসিসির কোন পূর্ণ সদস্যকে সেবারই প্রথম হোয়াইটওয়াশ করে বেঙ্গল টাইগাররা। গত ডিসেম্বরের ফলাফলও ছিল ৫-০।

তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ হোয়াইটওয়াশ করার প্রথম স্বাদ পায় ২০০৫-০৬ মৌসুমে। কেনিয়াকে নিজেদের মাটিতে প্রথমে ৪-০ ব্যবধানে হারানোর পরেই তাদের মাটিতে বাংলাদেশ জেতে ৩-০ ব্যবধানে।

এরপর জিম্বাবুয়ে ও নিউজিল্যান্ডকে দু’বার করে এবং পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, স্কটল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডকে একবার করে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা দেয় বাংলাদেশ।