জলঢাকায় ৩৭ কিলোমিটার এলাকায় বনায়ন

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৫, ১০:৩২
সবুজ-শ্যামল প্রান্তর। তপ্ত রোদে জিড়িয়ে নেয়ার উপযুক্ত পরিবেশ।এক সময়ের গরম মাটি, তা এখন শীতল। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাখির কিচিরমিচির ডাক। এটি অন্য কোথাও নয়। নীলফামারীর জলঢাকা ধর্মপাল ও গোলনা ইউনিয়ন বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার এলাকায় ৩০ প্রজাতির গাছ লাগিয়ে নজির স্থাপন করেছে 'তিস্তা বহুমুখী সমাজ কল্যাণ সংস্থা'। 
 
প্রকল্পটি ১০ বছর মেয়াদী তিস্তা ও বুড়ি তিস্তা নদীর অববাহিকা অঞ্চলের নদী ভাঙ্গন রোধে কাজ করছে। বাংলাদেশ সরকারের সড়ক ও জনপদ অধিদফতর, বাংলাদেশ রেলওয়ে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের আওতাধীন সংযোগ সড়ক, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ সড়ক অন্যান্য ভূমিতে সামাজিক বনায়নের অধীন অংশধারীত্বের ভিত্তিতে ফলজ ও বনজ বৃক্ষারোপন ও রক্ষণাবেক্ষণ বাগানের অন্তবর্তী খালি জায়গায় কৃষিজ, ফলজ বৃক্ষ, পশু খাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রকল্পটি কাজ করে চলছে অবিরাম। 
 
পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাষ্টি বোর্ড ও পিকেএসএফ-এর অর্থায়নে ও তাদের সহযোগিতায় উপজেলার ধর্মপাল ও গোলনা ইউনিয়নে ২০১১ সালে ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৬ দশমিক ৮৮ কি মি ৩৬ হাজার ৮শ গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও সংস্থাটির চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন নিজ উদ্যোগে ৪৪ হাজার চারা রোপন করেন। প্রকল্পটিতে উপকার ভোগী রয়েছেন ১৮০ জন। শতভাগ সফল হলে ৫৫ শতাংশ অর্থ সুবিধা ভোগীদের মাঝে বিতরণ করে দারিদ্র বিমোচনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে জানান বাগানের সদস্য ভবেশ চন্দ্র। একদিকে জলবায়ু বিরুপ প্রভাব রোধের পরিকল্পনা অপরদিকে দারিদ্র বিমোচনে কাজ করছে প্রকল্পটি। এসব চারা তদারকির জন্য দায়িত্বে ৩৬ জন পাহাড়াদার নিযুক্ত রেখেছেন। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। কখনো নিজেই প্রকল্প এলাকায় গিয়ে নিজ হাতে গাছের গোড়ায় পানি ঢেলেছেন, সময় মত সার দিয়েছেন, কখনো সঠিক পরিচর্যা করে সুস্থ সবল বৃক্ষের সমাহারে পরিনত করেছেন এলাকাটি। 
 
ধর্মপাল হাড়িকোট গ্রামের মৃত নীলমন বর্মনের ছেলে সুপাং চন্দ্র (৬০) জানান, 'চৈত্রের প্রখর রোদের তাপে এখানে বলতে গেলে বসবাসের অযোগ্য ছিল। বর্তমানে গাছ পালাগুলো উঠতে শুরু করলে এখনকার আবহাওয়ায় শীতলতা নেমে আসে। পর্যায় ক্রমে বসবাসের জন্য বাড়িঘরও বাড়ছে।' সেখানে গাছ পরিচর্যার জন্য নিয়োজিত সদস্য আব্দুল হামিদ জানান, দারিদ্র বিমোচনে এই প্রকল্পটি গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রকল্পটির ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি সংস্থাটির চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন। এমন সাফল্যে তিনি আনন্দিত। 
 
উপজেলা বন কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেন বলেন, 'জলবায়ু বিরুপ প্রভাব রোধে ও দারিদ্র বিমোচনে গাছ লাগিয়ে বিপ্লব ঘটিয়েছে সংস্থাটি। প্রকল্প বাস্তবায়ন সংস্থার চেয়ারম্যান দেলোয়ারের এই দৃষ্টান্ত গোটা দেশে একটি মডেল হবে বলে আমি মনে করি।'