পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স)

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৪২

আজ ১২ রবিউল আউয়াল। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স)। আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ (স)-এর জন্ম ও ওফাত দিবস। মহান আল্লাহতায়ালা তাঁহাকে রহমাতুল্লিল আলামিন বা সমগ্র বিশ্বের রহমতস্বরূপ প্রেরণ করিয়াছিলেন। আজি হইতে ১৪ শত ৪৮ বত্সর পূর্বে ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ আগস্ট, রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ সোমবার আরবের মরু প্রান্তরে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (স)। মহাকালের এক মহাক্রান্তিলগ্নে সূর্যোদয়ের ঠিক পূর্বমুহূর্তে, সুবহে সাদিকের সময় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। আবার ৬৩ বত্সর বয়সে এই দিনেই মদিনা মুনাওয়ারায় ইন্তেকাল করেন তিনি। এই কারণে বিশ্বের মুসলিম সমপ্রদায়সহ শান্তিকামী প্রত্যেক মানুষের নিকট এই দিনটি অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ।

মহান আল্লাহপাক তাঁহার পেয়ারা হাবিব বিশ্বনবী (স)-কে এই পৃথিবীতে পাঠাইয়াছিলেন বিশ্বজগতের রহমতস্বরূপ। আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করিয়া তৌহিদের মহান বাণী লইয়া আসিয়াছিলেন এই মহামানব। প্রচার করিয়াছেন শান্তির ধর্ম ইসলাম। তাঁহার আবির্ভাব এবং ইসলামের শান্তির ললিত বাণীর প্রচার সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করিয়াছে। বিশ্বনবী (স) ৪০ বত্সর বয়সে নবুয়ত লাভ করিয়াছিলেন। বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তাওহিদের বাণী প্রচারের দায়ে স্বজাতির নির্যাতনে নিরুপায় হইয়া জন্মভূমি ছাড়িয়া মদিনায় হিজরতে বাধ্য হইয়াছিলেন তিনি। অতঃপর ঐতিহাসিক মদিনা সনদ প্রণয়নের মাধ্যমে ইহুদি, পৌত্তলিক, খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের লইয়া মদিনাতে একটি স্বাধীন-স্বতন্ত্র জাতি ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে রাসুলের (স) আদর্শিক জাগরণ সমগ্র আরব উপদ্বীপকে নূতন আলোয় উদ্ভাসিত করে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বন একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁহার তাওহীদের এই ধর্মপ্রচারের মাধ্যমে আরব জাহানে নবজীবন সঞ্চারিত হয়, নূতন সভ্যতা-সংস্কৃতির উন্মেষ ঘটে ও উদ্ভব ঘটে এক নূতন জীবন ব্যবস্থার। অচিরেই এই সভ্যতা এবং ঐক্য, শান্তি, সাম্য ও মানবকল্যাণের চিন্তাচেতনা সারা বিশ্বের সার্বিক চিন্তা ও জীবনধারাকে প্রভাবিত করে ব্যাপকভাবে।

বিশ্বনবী (স)-এর জন্ম হইতে ইন্তেকাল অবধি তাঁহার প্রত্যেকটি কাজ সকল মানুষের জন্য অনুসরণীয়-অনুকরণীয়। সব ধরনের কুসংস্কার, গোঁড়ামি, অন্যায়, অবিচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভাঙিয়া মানবসত্তার চিরমুক্তির বার্তা বহন করিয়া আনিয়াছিলেন তিনি। তিনি ছিলেন উত্পীড়িত ও নির্যাতিত বনি আদমের প্রকৃত বন্ধু। অনাথ, দাস, কন্যাশিশু, বিধবা নারী ও গরিব-দুঃখীদের দুঃখ মোচনে ছিলেন সদাতত্পর। আল্লাহর হাবীব হুজুর আকরামের (স) মর্যাদা এতই সমুন্নত যে,  ফেরেশতাকুলও তাঁহার প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করিয়া থাকেন।  অতএব, আমরাও সবুজ শ্যামল বাংলার প্রান্তর হইতে সেই মহামানবের উদ্দেশে জানাই লাখো কোটি দরুদ ও সালাম।