গাজীপুরে দেড় বছর পর ডোবা থেকে কঙ্কাল উদ্ধার

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৫, ২১:২১
গাজীপুরে হত্যাকাণ্ডের দেড় বছর পর পুকুর থেকে শুক্রবার এক ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে নান্নু শেখ (৪০) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতের বাড়ি মাদারিপুর সদর থানার পাচখোলা গ্রামে।
 
জয়দেবপুর থানার এসআই সৈয়দ আবুল হাসেম জানান, নান্নু শেখের স্ত্রী রেবা বেগমের (৪০) সঙ্গে পার্শ্ববর্তী গ্রামের বোরহান খালাসি পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। গত বছরের প্রথম দিকে বোরহান খালাসির সঙ্গে বেবা বেগম পালিয়ে গাজীপুর চলে আসেন। তারা জেলা মহানগরীর দক্ষিণ সালনা এলাকায় ফজলুল হকের বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করতে থাকেন। গাজীপুরে দুজনই দিন মুজুরের কাজ করতেন। কিছুদিন পর তাদের মধ্যে কলহ বাধলে রেবা বেগম তার আগের স্বামী নান্নু শেখকে খবর দেয়। নান্নু শেখ সহযোগিদের নিয়ে গত বছরের ২৮ এপ্রিল রাতে জেলার দক্ষিণ সালনা এলাকায় ফজলুল হকের ভাড়া বাসায় আসেন। এ সময় বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে বোরহান খালাসিকে হত্যা করে নান্নু শেখ। হত্যার পর লাশের শরীরে ইটের খোয়া ভর্তি বস্তা বেঁধে পার্শ্ববর্তী মুন্নিলালেল পরিত্যক্ত ডোবায় ফেলে দেয়া হয়। ঘটনার পর ওই রাতেই নান্নু শেখ ও রেবা বেগম বাসা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
 
এ ঘটনায় নিহতের ভাগিনা আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে গত বছরের ১১ অক্টোবর জেলা আদালতে মামলা দায়ের করেন। এরই মধ্যে ঘটনা প্রকাশ পেলে জনতা নান্নু শেখকে আটক করে পুলিশে দেয়। ১৫ অক্টোরব জয়দেবপুর থানায় মামলাটি রেকর্ড হয়। পুলিশ নান্নু শেখকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তার বিরুদ্ধে জেলা আদালতে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় নান্নু। লাশের সন্ধান পায় পুলিশ।
 
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার রেজাউল হাসান রেজা তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত কর জানান, এ ঘটনায় আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।