সশস্ত্র বাহিনী দিবসের তাত্পর্য

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৪৪

আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বর্ণোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত জাতির ইতিহাসের অনন্য একটি দিন। যথারীতি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের সকল সেনানিবাস, নৌঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনীর ঘাঁটিসমূহে দিবসটি উদযাপিত হইবে। মুক্তিযুদ্ধে আত্মোত্সর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাইয়া রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করিবেন। সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ হইতেও নিবেদিত হইবে শ্রদ্ধার্ঘ্য। সংবর্ধিত করা হইবে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী এবং খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাহাদের উত্তরাধিকারীদের। ইহা সুবিদিত যে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সহিত ওতপ্রোতভাবে জড়াইয়া আছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস, হূদয় মন্থন করা ভালোবাসা ও বেদনার এমন সব স্মৃতি—যাহা কখনো মলিন হইবার নহে। এই দিনে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অকুতোভয় সদস্যরা সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে জলে, স্থলে ও আকাশপথে সমন্বিত আক্রমণের সূচনা করিয়াছিলেন—যাহার সফল সমাপ্তি ঘটিয়াছিল ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়া। হানাদারমুক্ত হইয়াছিল বাংলার প্রতিইঞ্চি মাটি এবং বিশ্বের মানচিত্রে সগৌরবে স্থান করিয়া লইয়াছিল স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। বস্তুত একাত্তরের ২১ নভেম্বর বীরোচিত প্রতিরোধ যুদ্ধের মধ্য দিয়া তিন বাহিনীর যে সম্মিলিত যাত্রা শুরু হইয়াছিল, তাহাই ছিল আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সূচনালগ্ন।

সকলেই জানেন, প্রকৃত প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হইয়া গিয়াছিল আরও আগেই। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়া মুক্তিকামী জনতার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলাইয়া সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়িয়া তুলিয়াছিলেন আমাদের বীর সৈনিকেরা। জাতির মুক্তিযুদ্ধের পবিত্র আগুনে স্নাত হইয়া যে সশস্ত্র বাহিনীর জন্ম, তাহাদের সহিত আর দশটি সশস্ত্র বাহিনীর তুলনা চলে না। বলা বাহুল্য, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্যই সেই গৌরবের সমান অংশীদার। অতীব আনন্দের বিষয় হইল, এই ব্যাপারে তাহারা পূর্ণমাত্রায় সচেতন। দেশের অভ্যন্তরে শুধু নহে, বিশ্বের দেশে দেশে তাহারা নিজেদের উচ্চমানের পেশাদারিত্ব প্রদর্শনের পাশাপাশি শান্তির পতাকা বহন করিয়া চলিয়াছেন প্রশংসনীয় দক্ষতার সাথে। প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলিয়াছেন যে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী দুর্যোগ মোকাবিলা, অবকাঠামো নির্মাণ, আর্তমানবতার সেবা, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা এবং বিভিন্ন জাতিগঠনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করিতেছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করিয়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করিয়া চলিয়াছেন। দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব এবং উন্নত নৈতিকতার আদর্শে বলীয়ান হইয়া আমাদের সশস্ত্র বাহিনী আরও আগাইয়া যাইবে এবং বিশ্ব পরিসরে সম্মুখ সারিতে স্থান করিয়া লইবে—ইহাই আমাদের আন্তরিক প্রত্যাশা। সশস্ত্র বাহিনী দিবসের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সফল হউক। সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্যের জন্য শুভ কামনা।