দেশ ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে যশোরে শেষ হয়েছে ইজতেমার আঞ্চলিক পর্ব। আখেরি মোনাজাতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা তিন লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন। প্রায় ২০ মিনিট স্থায়ী এই মোনাজাতে মুসল্লিরা আল্লাহপাকের নৈকট্য লাভ এবং ইহকাল ও পরকালের মুক্তির জন্য প্রার্থনা করেন। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন ঢাকার কাকরাইল মসজিদের শুরা সদস্য এবং তাবলিগ জামায়াতের নেতা মাওলানা আহম্মদ হোসাইন।
শনিবার আখেরি মোনাজাতে অংশ নেয়ার জন্য সকাল থেকেই ইজতেমা ময়দানের দিকে মানুষের ঢল নামে। মূল ইজতেমাস্থলে স্থান সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের ফাঁকা জায়গা, সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে মোনাজাতে অংশ নেন মুসল্লিরা। বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে আখেরি মোনাজাত শুরু হয়। এতে জেলার সংসদ সদস্য, শীর্ষ জনপ্রতিনিধি, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
গত বৃহস্পতিবার যশোরে প্রথমবারের মতো শুরু হয় বিশ্ব ইজতেমার আঞ্চলিক পর্ব। ঢাকার বাইরে প্রথমবারের মতো আয়োজিত তাবলীগ জামায়াতের তিনদিনের এ ইজতেমাকে ঘিরে মুসল্লিদের মিলনমেলায় পরিণত হয় উপশহর ও এর আশপাশের এলাকা। প্রথমদিনেই লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম ঘটে উপশহর এলাকায়।
দ্বিতীয় দিন শুক্রবার ইজতেমায় মুসল্লির সংখ্যা আরো বেড়ে যায়। এদিন শহর ও দূর-দূরান্তের লাখো মানুষ ইজতেমা মাঠে জুম্মার নামাজ আদায় করতে ছুটে আসেন। জুম্মার নামাজে প্রায় চার লাখ মুসল্লির সমাবেশ ঘটে। মূল ইজতেমাস্থলে স্থান সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের ফাঁকা জায়গা, সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে নামাজে দাঁড়িয়ে যান মুসল্লিরা।
ইজতেমা বাস্তবায়ন কমিটি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি জানুয়ারি মাসে ঢাকার টঙ্গীর তুরাগ পাড়ে তাবলীগ জামাতের সবচেয়ে বড় সমাবেশ ‘বিশ^ ইজতেমা’অনুষ্ঠিত হয়। দেশ বিদেশের কয়েক লক্ষ লোকের সমাগম ঘটে এ ইজতেমায়। কিন্তু কয়েক বছর ধরে লোকসমাগম বেড়ে যাওয়ায় তুরাগ পাড়ে স্থান সংকুলনের সমস্যা প্রকট হতে থাকে। এ জন্য আয়োজকরা সিদ্ধান্ত নেন ২০১৬ সালের ইজতেমায় তুরাগ পাড়ে মাত্র ৩২ জেলার মুসল্লিরা অংশ নেবেন। বাকী জেলার লোকজন নিজ নিজ এলাকায় বিশেষ ইজতেমার আয়োজন করবেন। প্রথমবারের মতো দেশের ১৬ টি জেলায় বিশ্ব ইজতেমার আঞ্চলিক পর্ব আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যশোরে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হলো।
