সঙ্গীত, নৃত্য, আলোচনা, আবৃত্তির ছন্দ ও সুরের মূর্ছনায় নবান্ন উৎসব উদযাপিত হলো। রবিবার ভোর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলা মেতেছিল সর্বজনীন এই উৎসবে।
‘এসো মিলি সবে নবান্নের উৎসবে’ স্লোগানে এই উৎসবের আয়োজন করে জাতীয় নবান্নোৎসব উদ্যাপন পর্ষদ ১৪২২। সংগঠনটির আয়োজনে এবারের উৎসব ১৭তম।
সকাল ৭টায় প্রিয়াংকা গোপের রাগসঙ্গীত আর ইফতেখার আলম প্রধানের তবলা বাদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব। এরপর নানা পরিবেশনায় নবান্ন উৎসব উদযাপন করেন সংস্কৃতিকর্মীরা। দলীয় নৃত্য, ফরিদা পারভিন ও মাহাবেদ ঘোষের একক সংগীত, কবিতা আবৃত্তি, সমবেত পরিবেশনা, আদিবাসী ওয়ানগালা জুম নৃত্যে মুখর হয়ে ওঠে চারুকলার বকুলতলা।
IMG0
৯টার দিকে নবান্ন উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিজন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নবান্নোৎসব উদযাপন পর্ষদের চেয়ারম্যান লায়লা হাসান, আহ্বায়ক শাহরিয়ার সালাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মানজার চৌধুরী সুইট।
এসময় সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমাদের পারিবারিক, সামাজিক, ধর্মীয় অনেক উৎসব আছে। কিন্তু সর্বজনীন উৎসব চর্চা বাড়াতে হবে। নবান্ন উৎসব আমাদের সর্বজনীন উৎসব। এই উৎসবে সব ধর্ম, শ্রেণী-পেশার মানুষ একত্রিত হতে পারে।
IMG1
এদিকে, উৎসবে আসা সবাই মুগ্ধ হন ফসল তোলার গান, গ্রামীণ ঐতিহ্যসমৃদ্ধ লোকসংগীত বাউলগান, আদিবাসী পরিবেশনা, বাউল-বাঁশি ও নৃত্য পরিবেশনায়। উৎসবে সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি পরিবেশন করে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বহ্নিশিখা, সত্যেনসেন শিল্পীগোষ্ঠী, স্পন্দন, আনন্দনসহ বিভিন্ন সংগঠন। আবৃত্তি ও সঙ্গীত পরিবেশন করেন আহকামউল্লাহ, সন্দিপনসহ অনেকে। এরপর চারুকলা থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি টিএসসি চত্ত্বর ঘুরে আবার বকুলতলায় এসে শেষ হয়। এদিকে, উৎসবে আরেকটি উল্লেখযোগ্য আয়োজন ছিল বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠাসমূহের প্রদর্শনী। পিঠার স্টলে সকাল থেকেই ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। স্টলগুলোতে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী প্রায় ২৫ রকমের পিঠার দেখা মিলে। এর মধ্যে নতুন চালের চিতই ও ভাপা পিঠা তাৎক্ষণিক বানিয়ে দেয়ায় আয়োজন ছিল সেখানে।
এবারের আয়োজনকে ভাগ করা হয়েছে দুটি অনুষ্ঠান সূচিতে। প্রথম পর্বে সকাল সাতটা থেকে শুরু হয়ে উৎসব চলে সকাল ৯টা পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্বের আয়োজন বিকেল ৩টা থেকে শুরু হয়ে চলে রাত ৯টা পর্যন্ত।
নবান্ন মানে নতুন অন্ন। নতুন ফসল ঘরে তোলা উপলক্ষে বাংলার কৃষকরা নবান্ন উৎসব পালন করে থাকে। নতুন ধানের চাল দিয়ে তৈরি করা হয় পিঠা, পায়েস, ক্ষীরসহ হরেক রকমের খাবার। বাড়ির আঙিনা নতুন ধানের মো-মো গন্ধে ভরে ওঠে। নবান্ন উৎসবের সঙ্গে মিশে আছে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। অগ্রহায়ণের শুরুতেই এপার বাংলা ও ওপার বাংলাতে চলে উৎসবের নানা আয়োজন।
