‘মাটি তোদের ডাক দিয়েছে, আয়রে চলে আয় আয়’ সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে রোববার শুরু হলো বাঙালী সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ নবান্ন উৎসব। আবহমান কাল ধরে গ্রাম বাংলায় বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে নবান্ন উৎসব পালন করা হয়ে থাকে।
সারাদেশে নবান্ন উৎসব পালন করার অংশ হিসাবে জয়পুরহাটেও জেলা প্রশাসন দিনব্যাপী নবান্ন মেলাসহ নানা কর্মসূচীর আয়োজন করে। শহীদ ডা: আবুল কাশেম ময়দানে আয়োজিত কর্মসূচীর মধ্যে ছিল বাঙালীর আবেগস্পর্শী বাঁশের বাঁশী ও ঢোল বাজিয়ে নবান্ন উৎসবের শুভ সূচনা। এতে অংশ নেন বংশীবাদক মিল্টন ও আনিসুর রহমান।
নবান্নের স্মৃতিচারণ করেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম ও জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গিত সম্মিলন পরিষদ জয়পুরহাট শাখার সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক বাবুল। জয়পুরহাট লাইব্রেরী ও ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাজা চৌধুরীর সঞ্চালনায় নবান্ন উৎসবে হেমন্ত ঋতুভিত্তিক গান ’ হিমেলও রাতে ঐ গগণের দীপ গুলিরে.., সহ অন্যান্য গান পরিবেশন করেন ফেরদৌস আরা লিপি, তামান্না ইয়াসমিন, মুক্তা, খাদিজা, পিউলী , অর্পিতা, অর্নব, নাসিমা।
উৎসবে কবিতা আবৃত্তি করেন মোস্তাহেদ ফাররোখ ও লালন। শিশু একাডেমীর শিশু শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করেন। এরপর বণার্ঢ্য নবান্ন শোভাযাত্রা শহর প্রদক্ষিণ শেষে কালেক্টরেট চত্বরে শেষ হয়।
এ ছাড়াও ঐতিহ্যবাহী ধান কাটা উৎসব, নতুন ধানের ক্ষীর ও খই বিতরণ, যেমন খুশি তেমন সাজ প্রতিযোগিতা, শিশুদের হাড়িভাঙ্গা , বিস্কুট দৌড়, মোরগ লড়াই ও ঘুড়ি বানানো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
নবান্ন উৎসব উপলক্ষ্যে শহীদ ডা: আবুল কাশেম ময়দানে নবান্ন মেলায় ভাপা ও পিঠা-পুলির ১৪ টি স্টল বসানো হয়েছে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে। বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা, স্কুল-কলেজের শিক্ষক সহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী নবান্ন উৎসবে অংশ গ্রহন করে।
বক্তারা বাঙালী জাতির এই অসাম্প্রদায়িক নবান্ন উৎবকে সর্বক্ষেত্রে ছড়িয়ে দেয়ার আহবান জানিয়েছেন।
