প্রচারণার পেরেকে গাছের সর্বনাশ

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৪৬

 

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কের পাশের গাছগুলোতে প্রচারণা বোর্ড শোভা পাচ্ছে। সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানের গাছে গাছে মোটা-লম্বা গজাল পেরেক ঠুকে নির্বাচনী প্রচার চালানো হচ্ছে। নির্বাচনী ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন ইত্যাদি টানানো হয়েছে গাছে গাছে। শুধু জেলা-উপজেলার সড়কগুলোতে নয়, গ্রামাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সড়কের গাছগুলোতেও একই দৃশ্য। সড়কের  দুই পাশের বড় বড় গাছের ১০ থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত ঢেকে ফেলা হয়েছে প্রচার বোর্ডে। এক একটি বড় গাছে ১০-১২টি পর্যন্ত প্রচার বোর্ড টানানো হয়েছে। সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারের বোর্ড ছাড়াও ক্লিনিক, ডাক্তার, হারবাল চিকিত্সালয়, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের কোচিং সেন্টার, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন বোর্ডসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে গাছ ঢেকে গেছে। কোথাও কোথাও বোর্ডগুলো দৃশ্যমান করতে গাছের ডালপালা ছেঁটে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। আবার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গাছে গাছে প্রচার বোর্ড স্থাপন করার ফলে চালকরা রাস্তার বাঁক বা মোড়ের বেশিদূর দেখতে পাচ্ছেন না। ফলে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। গাছগুলোতে গজাল পেরেক বসিয়ে বোর্ডসহ ব্যানার-ফেস্টুন টানানোর ফলে সৌন্দর্য হানিসহ গাছের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। মোটা-লম্বা গজাল পেরেক বসানোর ফলে গাছে গর্ত তৈরি হচ্ছে। এতে করে পেরেকের ছিদ্রযুক্ত স্থান থেকে কাঠ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া  গাছের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পেরেক ঠোকার স্থানে গাছের রস বা আঠা জাতীয় পদার্থ বের হয়। আবার অতিরিক্ত মাত্রায় বড় পেরেক ঠুকলে গাছ শুকিয়ে মারাও যেতে পারে! গাছের ওপর এতসব অত্যাচার হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

 গাছ মানুষের পরম বন্ধু। একেকটি গাছ হলো অক্সিজেন ফ্যাক্টরি। পেরেক লাগানোর কারণে গাছের গায়ে ছিদ্র হয়ে তা দিয়ে পানি ও এর সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অণুজীব প্রবেশ করে। এতে করে গাছে পচন ধরার ঝুঁকিসহ গাছের খাদ্য ও পানি শোষণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এককথায়, গাছে পেরেক মারলে গাছের জীবনীশক্তি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। সত্যি কথা বলতে কি গাছে পেরেক ঠোকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো আইনি নির্দেশনা নেই। অনেক সময় দেখা যায়, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা উপেক্ষা করেও (নিদিষ্ট সময় পর  পোস্টার, ব্যানারসহ নির্বাচনী প্রচার সামগ্রী অপসারণের নিদিষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও) গাছে গাছে নির্বাচনী বোর্ড, ব্যানার-ফেস্টুন সাঁটিয়ে রাখা হয়। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে নির্বাচনের সময় এর অপব্যবহার বেশি লক্ষণীয়। বনজ সম্পদের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব রুখতে এবং পরিবেশ রক্ষা করতে যে কোনোভাবে গাছের ওপর এই অত্যাচার বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে নির্বাচনের সময়টায় নেতাকর্মীসহ বছরের অন্যান্য সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে গাছে গাছে প্রচারণা বোর্ড, ব্যানার-ফেস্টুন টানানো বন্ধে নিজেদেরই উদ্যোগী হতে হবে। এখনই গাছের ওপর পেরেকসহ নানাবিধ সর্বনাশ ঠেকাতে না পারলে এর ব্যবহার বেড়েই চলবে। তাই সময়ের প্রয়োজনে আইন বা বিধিমালা তৈরি করে গাছের ওপর এই অত্যাচারসহ সব ধরনের ক্ষতি থামাতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সুশীল সমাজকে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া পরিবেশের বন্ধু গাছের ওপর পেরেক মারাসহ সব ধরনের অত্যাচার বন্ধে সর্বস্তরের সকলকে সচেতন করতে হবে। 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়