ইদানীং কিছু লিখতে বসলেই খুব দ্বিধা-দ্বন্দে ভুগি। আমার মস্তিষ্ক আমাকে অনেক কিছু লিখতে আহ্বান জানায়, কিন্তু লিখতে বসলেই কলম আমায় বাধা দেয়। কী লিখব? কিছু লিখলেই তা কারো না কারো বিপক্ষে যাবে! কী লিখে আমি কার রোষানলে পড়ব! কিন্তু এটা বলতে পারি যে, ধান্ধাবাজদের রাজত্ব আজ সবখানে। বিশেষ করে রাজনীতিতে। আর এই ধান্ধাবাজদের নিয়ে লিখতে বসাটা ভারি বিপদের বিষয়।
আমার কাছে তাঁকেই খুব জ্ঞানী ও বিজ্ঞ মনে হয় যিনি রাজনীতির চালটা খুব ভালো করে বুঝতে পারেন। এত এত ধান্ধাবাজ আজ রাজনীতির প্লাটফর্মে বিচরণ করছে যে, কে আসল কে নকল তা বোঝারই উপায় নাই এখন। যে যার নিজের স্বার্থচিন্তায় সারাক্ষণ নিমগ্ন। এত ধান্ধাবাজের ভেতর থেকে ঠিক মানুষগুলোকে খুঁজে বের করা আসলেই কঠিন কাজ। তবু আমরা পারি, একটু চোখ-কান খোলা রাখলেই আমরা বুঝতে পারি, কোনটা আমাদের জন্য শুভকর ও কল্যাণকর। আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে না, তোষামুদে রাজনীতিবিদ ও ধান্ধাবাজদের খুব সহজেই চেনা যায় এখন। যাদের উদ্দেশ্যটাই মূলত নিজ স্বার্থ সিদ্ধি করা। তারা সবসময়ই দেশের সাধারণ মানুষকে বোকা বানাতে ব্যস্ত। তারা নিজেরা ভুলে যায় যে, স্বার্থের রাজনীতি কখনোই সুফল বয়ে আনে না। তাদের পরাজয় অনিবার্য।
আমাদের দেশের সাফল্য আজ আমাদের কাছেই প্রতীয়মান। একটু চোখ খুললেই বুঝতে পারি, আমরা আজ কতটুকু এগিয়েছি। বিশ্বে আমাদের স্থান কোন পর্যায়ে তা আজ স্পষ্টভাবেই দৃশ্যমান। আমাদের দেশের গঠন বিন্যাস এখন আমাদেরই হাতে। দেশের অগ্রগতিতে তরুণদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই তাদেরই এক্ষেত্রে অসামান্য ভূমিকা পালন করতে হবে।
সামনে নির্বাচন। মাশরাফির রাজনীতিতে পদার্পণ নিয়ে ইদানীং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সমালোচনার বেশ হিড়িক লেগেছে। অনেক অনেক বিজ্ঞ সমালোচকের জন্ম হচ্ছে প্রতিদিন যাঁরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভালো কাজের সমালোচনা করেন। বড় অবাক হই তখন। যাঁদের কাছে মাশরাফি এতদিন মহানায়ক ছিলেন, তাঁরাই আজ বাজেভাবে তাঁর সমালোচনায় মুখর। তাঁদের নিয়ে আসলে কিছু বলার নেই, তাঁরা কী বোঝাতে চান সেটা তাঁরাই ভালো বোঝেন।
যাই হোক, রাজনীতির এসব মারপ্যাঁচ কোনোদিন বুঝিনি। আর এসব কোনোদিন বোধেও আসবে না। আমি শুধু এটাই বলতে পারি, আমাদের রাজনীতি সুন্দর হোক, স্বচ্ছ ও নির্মল ঝরনাধারার মতো পবিত্র হোক। ঈর্ষাপরায়ণতা, পারস্পরিক দ্রোহ-বিদ্রোহ, দ্বন্দ্ব, কলহ ও রেষারেষি দূর হোক।
ধান্ধাবাজ নয়, ভালো মানুষগুলোই দেশের হাল ধরুক।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
